স্বাধীন সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও কাঠামোগত সংকট’: হাসনাত আব্দুল্লাহ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৬৯ বার
স্বাধীন সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও কাঠামোগত সংকট’: হাসনাত আব্দুল্লাহ

প্রকাশ: ২৩ অগাস্ট ’২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ স্বাধীন সাংবাদিকতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা কিংবা হত্যার ন্যায়বিচার না হওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীরা ক্রমেই এক অনিশ্চিত জীবনের মধ্যে পড়ছেন। শনিবার (২৩ অগাস্ট) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ বক্তব্য দেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, অনেক পরিশ্রমী সংবাদকর্মীর সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায় যে গণমাধ্যমের এই সংকট কেবল দৈবক্রমে নয়, বরং কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে তৈরি হয়েছে। দেশে টেলিভিশন সম্প্রচারের জন্য আলাদা আইন না থাকায় সরকার চাইলে যেকোনো সময় একটি চ্যানেল বন্ধ করে দিতে পারে। অনলাইন এবং টিভি মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো না থাকায় সাংবাদিকদের জীবনযাত্রা নানামুখী সংকটে জর্জরিত। ঢাকায় বহু সাংবাদিক মাসে মাত্র আট থেকে দশ হাজার টাকার স্বল্প আয়ে কাজ করছেন, আর মফস্বলে অধিকাংশ সংবাদকর্মী কোনো বেতনই পান না। এমনকি অনেক সময় একটি সাধারণ পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতেও উল্টো অর্থ দিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রগুলো এখনো ২০১৩ সালের অষ্টম ওয়েজবোর্ড অনুসরণ করে, সেটিও বাধ্যতামূলক নয়। ফলে অধিকাংশ মালিক তা মানেন না। যেখানে বেতন দেওয়া হয়, সেখানেও চার থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত বকেয়া থাকা অস্বাভাবিক নয়। চাকরির স্থায়িত্ব নেই, মালিক চাইলে যেকোনো সময় কর্মী ছাঁটাই করতে পারেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা বা হত্যার বিচার হয় না বলেই তারা পেশাগত নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়ে থাকেন।

স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে সবচেয়ে বড় বাধার কথা উল্লেখ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ গণমাধ্যমকে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে ডিজিএফআই-এর প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। তাদের নির্দেশ মানা না হলে বিজ্ঞাপন বন্ধ হয়ে যায়, মালিকদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হয় এবং নানা ধরনের হয়রানির সম্মুখীন হতে হয়। এ কারণে গণমাধ্যমের মালিকরা ক্ষমতাসীনদের কাছাকাছি থাকতে বাধ্য হন। সাংবাদিকদের অনেক সময় সরাসরি রাজনৈতিক দালালি করতেও চাপ দেওয়া হয়।

হাসনাত আব্দুল্লাহর মতে, এই পরিস্থিতিতে স্বাধীন সাংবাদিকতা শুধু কঠিনই নয়, বরং জীবন ও জীবিকার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্পোরেট স্বার্থ ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের নেক্সাস গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে ক্রমেই সংকুচিত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com