প্রকাশ: ২৩ অগাস্ট ’২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
ইউক্রেন সংকটের সমাধানে কোনো বাস্তব অগ্রগতি না হওয়ায় আবারও রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর বহুল আলোচিত বৈঠকের মাত্র এক সপ্তাহ পরই ট্রাম্প এই সতর্কবার্তা দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে চাইছে, যদিও শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প নিজেকে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরছেন।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি। সেটা হয়তো কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা হবে, অথবা বড় ধরনের শুল্ক আরোপ হতে পারে, আবার দুটোই হতে পারে। তবে কিছুই না করার সিদ্ধান্তও নিতে পারি এবং বলতে পারি—এটা তোমাদের যুদ্ধ, তোমরাই সামলাও।” তাঁর এই মন্তব্যে কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে।
ট্রাম্পের অসন্তুষ্টির মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ইউক্রেনে সাম্প্রতিক এক রুশ হামলার ঘটনা। ওই হামলায় একটি মার্কিন মালিকানাধীন কারখানায় আগুন ধরে যায় এবং কয়েকজন কর্মী আহত হন। প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, এই ঘটনাই ট্রাম্পকে নতুন করে রাশিয়ার প্রতি কঠোর অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার বলেন, রাশিয়া সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যাতে তাঁর সঙ্গে পুতিনের সরাসরি বৈঠক না হয়। তিনি বারবারই উল্লেখ করেছেন যে, যুদ্ধ থামানোর একমাত্র কার্যকর পথ হলো মস্কোর সঙ্গে সরাসরি সংলাপ। জেলেনস্কির এই অবস্থান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যেও সমর্থন পাচ্ছে।
ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন যে, আলাস্কার বৈঠকের পর তিনি পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং সেখানেই পুতিন-জেলেনস্কির মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠকের প্রাথমিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্যে, “আমি বিষয়টি এগিয়ে নিয়েছি এবং এটি সম্ভব করতে চাই।” কিন্তু রাশিয়ার পক্ষ থেকে পাওয়া বার্তা ছিল ভিন্ন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “কোনো বৈঠকের প্রস্তুতি এখনো হয়নি। উপযুক্ত এজেন্ডা তৈরি হলে পুতিন জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত থাকবেন। তবে এ মুহূর্তে সে এজেন্ডা একেবারেই প্রস্তুত নয়।”
এই বক্তব্য ট্রাম্পের জন্য নিঃসন্দেহে একটি ধাক্কা। কারণ পুরো সপ্তাহ জুড়েই তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিলে আনতে বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জন করেছেন। এমনকি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ধীরগতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে তাঁর লাল কার্পেটে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি দেখিয়েছেন, যা দিয়ে তিনি সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যক্তিগত সাফল্য তুলে ধরতে চেয়েছেন।
এছাড়া ট্রাম্প আরও জানান, পুতিন তাঁকে বলেছেন তিনি ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সময় যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসতে আগ্রহী। এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একদিকে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি, অন্যদিকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ঘনিষ্ঠতার বার্তা—এই দুই ভিন্নমুখী কূটনৈতিক অবস্থান আসলে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির জটিলতাই তুলে ধরে।
রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের এই নতুন টানাপোড়েন আগামী দিনে কেবল ইউক্রেন সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।