প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় ফেরার নেপথ্য প্রস্তুতি। গণআন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকার পর তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন এবং এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হয়। তবে দেশ ছাড়লেও দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে শেখ হাসিনা নানাভাবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রভাবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের নাম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে জানা গেছে, শেখ হাসিনার সঙ্গে গোপনে দিল্লিতে সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আওয়ামী লীগের পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার জন্য নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
সূত্র জানায়, দিল্লির ওই বৈঠকে এস আলম শেখ হাসিনাকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সহায়তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। বলা হচ্ছে, ৪৫০০ কোটি টাকা এ পরিকল্পনায় খরচ করা হবে, যার একটি অংশ আন্তর্জাতিক লবিং ও নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করতে ব্যবহার করা হবে। অন্য অংশ দিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি, অন্তর্বর্তী সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রভাবিত করা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এস আলমের এই সফরের গতিপ্রকৃতি নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। জুলাই বিপ্লবের বর্ষপূর্তি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা কয়েকটি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে একই ধরনের তথ্য। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সেই নীলনকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে ভারতের মাটিতে বসে।
এছাড়া জানা গেছে, এস আলম সাম্প্রতিক সময়ে মক্কা, মদিনা ও দুবাই সফর করেন, যেখানে তিনি পলাতক আওয়ামী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং বিদেশে পাচারকৃত অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা করেন। মক্কার একটি বিলাসবহুল হোটেলে বসে তিনি পলাতক কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে।
৮ আগস্ট দিল্লিতে শেখ হাসিনার বাসভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আরও কয়েকজন প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রী ও দলীয় শীর্ষ নেতা। দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টার ওই বৈঠকে ক্ষমতায় ফেরার রূপরেখা তৈরি হয় এবং দায়িত্ব বণ্টনও করা হয়। জানা গেছে, অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য গঠিত একটি কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের তিন প্রভাবশালী নেতা—জাহাঙ্গীর কবির নানক, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে।
এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে কাজ করা মহলগুলো বলছে, জনগণের রক্ত ও আন্দোলনের মাধ্যমে পতন হওয়া একটি দলকে অর্থ ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফেরানোর চেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ মহলগুলো বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে প্রশ্ন রয়ে গেছে, রাজনৈতিক ক্ষমতায় ফেরার জন্য এ ধরনের গোপন বৈঠক ও অর্থনৈতিক সমঝোতা কতটা গ্রহণযোগ্য এবং দেশের স্বার্থে কতটা বিপজ্জনক। সময়ই বলে দেবে, এসব পরিকল্পনা কেবল গুজব হয়েই থাকবে, নাকি তা বাস্তবে পরিণত হয়ে আবারও দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেবে।