প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশটি প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে। বিডা কর্মকর্তাদের মতে, এটি দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি ইতিবাচক সংকেত এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে শিল্পায়ন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করছে।
বিডার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি মঙ্গলবার রাজধানীর বিডা অডিটোরিয়ামে বিনিয়োগ বিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জানান, প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোর প্রায় ২০ শতাংশ ইতোমধ্যেই অগ্রসর পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে চুক্তি স্বাক্ষর, জমি ইজারা নিশ্চিতকরণ এবং বরাদ্দপত্র প্রদান। তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল বিনিয়োগের পরিমাণ নয়, বরং এর মান ও স্থায়িত্বও নিশ্চিত করা। এ ধারা অব্যাহত থাকলে এবং প্রক্রিয়া আরও সহজতর হলে আগামী মাসগুলোতে আরও কার্যকর ফলাফল পাওয়া সম্ভব।”
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের প্রায় ৬০ শতাংশ বর্তমানে অনুসন্ধানী বা যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। এই পর্যায়ে রয়েছে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রাথমিক আলোচনা এবং প্রাথমিক প্রকল্প পরিকল্পনা। রোচি বলেন, “এটি বৃহৎ পরিসরের বিনিয়োগের জন্য স্বাভাবিক ধারা। বিশ্বব্যাপী বেশিরভাগ প্রস্তাবই অনুসন্ধানী পর্যায় থেকে শুরু হয় এবং সঠিক সহায়তা পেলে ধীরে ধীরে বাস্তবায়নের দিকে অগ্রসর হয়।”
তিনি আরও জানান, প্রায় ২০ শতাংশ প্রস্তাব এখন গভীর পর্যালোচনায় রয়েছে, যা আনুষ্ঠানিক নথিপত্রের পূর্ববর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধাপভিত্তিক বিনিয়োগ পাইপলাইন আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসে পুঁজি প্রবাহের একটি বাস্তবসম্মত চিত্র প্রদান করবে।
বেজার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী সদস্য মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে বেজা একটি ইউনিফাইড ইনভেস্টমেন্ট পোর্টাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্লাটফর্মে বিনিয়োগের অগ্রগতি, জমির প্রাপ্যতা এবং অনুমোদন সংক্রান্ত তথ্য একত্রে পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, “এ পোর্টাল বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে এবং প্রশাসনিক ফলোআপের সময় কমিয়ে আনবে। এছাড়া এটি বিনিয়োগের বিভিন্ন ধাপের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং সুবিধা দেবে, যা সরকারি ও বেসরকারি উভয় পক্ষকে কার্যকরভাবে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে।”
টেকসই বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বেজা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পরামর্শকদের সহায়তায় একটি বিশেষ গবেষণা ইউনিট চালু করেছে। এই ইউনিট বর্তমানে রাবার, আসবাবপত্র, ওষুধশিল্প এবং পর্যটনসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলো চিহ্নিত করছে।
তবে বেজা কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোকে কার্যকর প্রকল্পে রূপান্তর করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, “জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে অবকাঠামো প্রস্তুতি এবং ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য। বিনিয়োগ আকর্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা আরও জরুরি।”
বিডা ও বেজার এই উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এর ফলে দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে।