প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামির খালাস বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা এ মামলার বিচারিক অধ্যায়ের বড় একটি পরিসমাপ্তি ঘটল।
গত বছরের ১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট এ মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সব আসামিকে খালাস দেন। হাইকোর্ট তখন বলেছিলেন, বিচারিক আদালতের রায় ছিল অবৈধ, কারণ তা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দেওয়া হয়েছিল। এই রায়ের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রপক্ষ আপিলে গেলে আজ আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে।
রাষ্ট্রপক্ষে আপিলের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভূঞা। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনির। চলতি বছরের ১৫ মে থেকে লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু হয় এবং কয়েক মাসের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ রায় ঘোষণা করা হলো।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আওয়ামী লীগের ২৪ জন নেতা-কর্মী নিহত হন এবং শেখ হাসিনাসহ দলের শীর্ষ পর্যায়ের বহু নেতা গুরুতর আহত হন। ওই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
২০১৮ সালে বিচারিক আদালত রায় ঘোষণা করে বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, তারেক রহমানসহ ১৯ জনকে যাবজ্জীবন এবং আরও ১১ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। তবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে হাইকোর্ট এ রায় বাতিল করে দেন এবং সব আসামিকে খালাস দেন। আজকের আপিল বিভাগের রায়ে সেই খালাস বহাল থাকল।
আইনজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগীয় ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন, এতদিন ধরে চলা তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার পর আসামিদের খালাস পাওয়া রাজনৈতিকভাবে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করবে। আওয়ামী লীগপন্থী নেতাদের অনেকে ইতোমধ্যেই এ রায় নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
২১ আগস্ট হামলার ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়লেও বিএনপির পক্ষ থেকে এ রায়কে ন্যায়বিচারের বিজয় বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক মঞ্চে আলোচিত এ মামলার রায় দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।