মাকে যেতে না দেওয়ায় ভোটাধিকার হারালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৯৮ বার
মাকে যেতে না দেওয়ায় ভোটাধিকার হারালেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া

প্রকাশ:০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে এসে অভিভাবককে সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি না পাওয়ায় ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে হাজারীবাগের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেন তিনি। কিন্তু প্রবেশমুখে প্রক্টোরিয়াল টিমের বাধার মুখে পড়েন এবং তার মা মিসেস শহীদুল ইসলামকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এতে হতাশ হয়ে মা–মেয়েকে ফিরে যেতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি সাদিয়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সাদিয়া সাংবাদিকদের বলেন, “ডাকসু নির্বাচনে ভোট দিতে আসছিলাম। আমি ছাত্রছাত্রী হিসেবে ভোটার তালিকায় আছি। কিন্তু আমার মাকে ভেতরে যেতে দেওয়া হলো না। আমার তো মনে হয় অন্তত একজন অভিভাবককে অনুমতি দেওয়া উচিৎ ছিল। উনি তো বহিরাগত নন, আমার মা। উনি ভোটকেন্দ্রে যাবেন না, শুধু আমাকে পর্যন্ত সঙ্গ দেবেন। এতটুকু ছাড় দেওয়া যেত।” আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি যোগ করেন, “এভাবে ভোট দিতে না পারায় আমি সত্যিই দুঃখ পেয়েছি।”

তার মা মিসেস শহীদুল ইসলামও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমি মা হিসেবে মেয়েকে একা ছাড়তে পারিনি। আমি ক্যাম্পাসে ভেতরে গেলেও ভোটকেন্দ্রে ঢুকতাম না। কিন্তু আমাকে অনুমতি দেওয়া হলো না। এতে আমরা দুজনেই খুব কষ্ট পেলাম। মেয়ে ভোট দিতে আসলো আর ফিরে গেল—এটা খুবই হতাশাজনক।”

ঘটনা সম্পর্কে দায়িত্বরত সহকারী প্রক্টর, সহকারী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম সোহাগ বলেন, “আমরা শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে আছি এবং এ ব্যাপারে আমাদের নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভোটার ছাড়া অন্য কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না। কেউ যদি এই কারণে ভোট দিতে না পারেন, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমাদের দায়িত্ব ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা রক্ষা করা।”

এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভোটকেন্দ্রে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কতটা মানবিক দিক বিবেচনা করছে। আবার অন্য একটি অংশ বলছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়ম সবার ক্ষেত্রেই অভিন্নভাবে কার্যকর হওয়া উচিত।

ডাকসু নির্বাচন সবসময়ই দেশের রাজনীতি ও শিক্ষাঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। শিক্ষার্থীদের এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ গণতান্ত্রিক চর্চার একটি বড় উদাহরণ। তবে সাদিয়ার মতো শিক্ষার্থী যদি মায়ের সঙ্গে আসতে না পারার কারণে ভোট দিতে না পারেন, সেটি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মানবিকতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক তৈরি করলো। এখন দেখার বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কোনো সমাধানমূলক পদক্ষেপ নেয় কি না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত