প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নেপালের রাজনৈতিক অঙ্গন আজ এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। তুমুল বিক্ষোভ, জনঅসন্তোষ এবং সহিংসতায় টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি। মঙ্গলবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, চলমান সংকটের একটি রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করতেই তিনি স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং নেপালের বিভিন্ন পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের অসন্তোষ ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা পর্যন্ত নানা ইস্যুর বিরুদ্ধে জনরোষই শেষ পর্যন্ত অলি সরকারের পতন ডেকে আনে।
রাজধানী কাঠমান্ডু এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলতে থাকে। ক্ষুব্ধ জনতা প্রেসিডেন্টের বাসভবন ঘেরাও করে এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ রাজনীতিবিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এর মধ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অলি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার বাসভবনও আক্রান্ত হয়। ক্ষমতাসীন দলের কার্যালয়েও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হলেও আন্দোলনকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান আরও জোরদার করে।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের আরোপিত আকস্মিক নিষেধাজ্ঞা যুবসমাজকে উত্তাল করে তোলে। বিশেষ করে জেনারেশন-জি প্রজন্মের তরুণরা রাস্তায় নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যাওয়াকে তারা গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের সমতুল্য হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে তারা দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, লাগামহীন বেকারত্ব এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে। সোমবারের বিক্ষোভে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৯ জন প্রাণ হারান। দেশজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলে রাতারাতি সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় কারফিউ জারি করা হয়।
তবে কারফিউ অমান্য করে মঙ্গলবার ভোর থেকেই হাজার হাজার মানুষ রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু করে। আন্দোলনের চাপ বাড়তে থাকলে সরকারের তিনজন মন্ত্রী পদত্যাগপত্র জমা দেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এটি ছিল প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অবশেষে দুপুরের দিকে কেপি শর্মা অলি নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
তার পদত্যাগের মাধ্যমে নেপালে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নতুন মোড় নিলেও দেশটির পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জনগণের দাবি পূরণে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন বা নতুন নির্বাচনের উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা কম। নেপালের সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছে—দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্ব কীভাবে এ সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে পায়।










