ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে রুবিওর অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ১০ বার
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে কঠোর মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার গড়ে তুলছিল, যার লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যতে সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচিকে সুরক্ষা দেওয়া। যদিও ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কো রুবিও বলেন, ইরান এমন একটি সামরিক সক্ষমতা তৈরি করছিল, যেখানে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে যে কোনো দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করে দেওয়ার ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা চলছিল বলে তাদের ধারণা। তার মতে, এই সক্ষমতা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

রুবিও আরও বলেন, ইরানের কাছে এত বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ থাকার লক্ষ্য ছিল এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তার ভাষায়, এ ধরনের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ সক্ষমতা গড়ে তুলে একটি দেশ নিজেকে এমন অবস্থানে নিতে পারে, যেখানে বাইরের কোনো শক্তি সহজে হস্তক্ষেপ করতে সাহস পাবে না। তিনি দাবি করেন, এই নিরাপত্তার আবরণ তৈরি হওয়ার পরই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোতে পারত।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার দাবি, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এবং বিষয়টিকে “অসম্ভব” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়াতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই জটিল, তার ওপর পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।

ইরান সরকার বহু বছর ধরেই দাবি করে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার জন্য এই কর্মসূচি চালাচ্ছে এবং কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরানের অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আঞ্চলিক সংঘাতে ড্রোন ব্যবহারের বৃদ্ধি ইরানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে এই সক্ষমতা প্রতিরক্ষামূলক নাকি আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইরানের এই সামরিক সক্ষমতা শুধু আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগের কারণ হতে পারে। অন্যদিকে ইরান ও তার মিত্ররা বলছে, এটি মূলত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা, যা বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিরোধের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই ইসরায়েল, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন সংঘাতের কারণে উত্তপ্ত। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারস্পরিক বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য সাধারণত কূটনৈতিক চাপ তৈরির অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে বাস্তবে পরিস্থিতি আরও জটিল, কারণ একদিকে নিরাপত্তা উদ্বেগ, অন্যদিকে পারমাণবিক চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয়গুলোও এর সঙ্গে জড়িত।

বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিধর দেশ এখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং অব্যাহত উত্তেজনা এই আলোচনাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করছে।

সব মিলিয়ে, মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক মন্তব্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে চাপের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত