কোহলির সেঞ্চুরিতে শীর্ষে বেঙ্গালুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ৫২ বার
কলকাতাকে হারিয়ে শীর্ষে বেঙ্গালুরু

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেন ভারতের তারকা ব্যাটসম্যান বিরাট কোহলি। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। কোহলির ব্যাটিং নৈপুণ্যে ভর করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে।

রায়পুরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে কলকাতা নাইট রাইডার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯২ রান সংগ্রহ করে। শুরুতে ভালো সূচনা পেলেও মাঝের ওভারে দ্রুত উইকেট হারায় দলটি। তবে রিঙ্কু সিংয়ের ঝলমলে ইনিংস এবং অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বড় স্কোর গড়ে কলকাতা।

জবাবে রান তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন কোহলি। ওপেনিং জুটিতে দলকে ভালো ভিত্তি এনে দেন তিনি এবং জ্যাকব বেথেলের সঙ্গে ৩৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। যদিও বেথেল দ্রুত ফিরে গেলেও কোহলি থেমে যাননি। পরবর্তীতে দেভদূত পাডিকালের সঙ্গে গড়ে তোলেন ৯৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

পুরো ইনিংসে কোহলি ছিলেন আক্রমণাত্মক ও নিয়ন্ত্রিত। ৬০ বল মোকাবিলা করে ১১টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে তিনি ১০৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তার ব্যাটিংয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল আত্মবিশ্বাস, টাইমিং এবং দারুণ শট নির্বাচন। এই ইনিংসটি আইপিএলে তার নবম শতক হিসেবে রেকর্ডে যুক্ত হলো।

কোহলির ইনিংসের পাশাপাশি জিতেশ শর্মার ছোট কিন্তু কার্যকর অবদান দলকে জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। শেষ পর্যন্ত ১৯.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পূরণ করে বেঙ্গালুরু। ৬ উইকেট ও ৫ বল হাতে রেখে জয় পায় তারা।

এই জয়ের মাধ্যমে ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট থাকলেও রান ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে গুজরাট টাইটান্স। ফলে প্লে-অফে যাওয়ার পথ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে বেঙ্গালুরু।

ম্যাচের শুরুতে রায়পুরের উইকেট ছিল পেসারদের জন্য সহায়ক। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শুরুতেই কলকাতাকে চাপে ফেলে দেয় বেঙ্গালুরুর বোলাররা। ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হ্যাজেলউডের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে দ্রুত উইকেট হারায় কলকাতা।

তবে অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ও ক্যামেরন গ্রিনের জুটি ম্যাচে কিছুটা স্থিতি আনে। ৪০ বলে ৬৮ রানের জুটি গড়ে তারা দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেন। পরে রিঙ্কু সিংয়ের ঝোড়ো ব্যাটিং ইনিংসকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়।

রিঙ্কু সিং ৪৬ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭১ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। শেষদিকে অপরাজিত থাকা তার ৪৯ রানের ইনিংস দলকে লড়াকু স্কোরে পৌঁছে দেয়। যদিও শেষ পর্যন্ত এই রানও কোহলির সামনে যথেষ্ট হয়নি।

বেঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে ভুবনেশ্বর কুমার, হ্যাজেলউড এবং রাশিক সালাম একটি করে উইকেট নেন। কলকাতার বোলিং আক্রমণে কার্তিক তিয়াগী ছিলেন সবচেয়ে সফল, তিনি ৩২ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন।

রান তাড়ায় শুরু থেকেই কোহলির ব্যাটিং ছিল আত্মবিশ্বাসে ভরপুর। প্রতিটি শটেই ছিল নিয়ন্ত্রণ এবং অভিজ্ঞতার ছাপ। প্যাডিকালের সঙ্গে তার ৯৬ রানের জুটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারালেও কোহলি ছিলেন অটল। তার ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন পুরোনো ছন্দে ফিরে এসেছেন। টানা দুই ইনিংসে ব্যর্থতার পর এই সেঞ্চুরি তার ফর্ম নিয়ে সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, কোহলির এই ইনিংস শুধু একটি ম্যাচ জেতানোর পারফরম্যান্স নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টে বেঙ্গালুরুর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। তার নেতৃত্ব ও ব্যাটিং ফর্ম দলকে শিরোপার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে কলকাতার দেওয়া ১৯২ রানের লক্ষ্য সহজেই পেরিয়ে গিয়ে কোহলির অসাধারণ সেঞ্চুরিতে আরেকটি স্মরণীয় জয় তুলে নেয় বেঙ্গালুরু। আইপিএলের চলতি আসরে এই জয় তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত