পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে একযোগে কাজের আহ্বান ইশরাকের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
  • ১১ বার
পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে একযোগে কাজের আহ্বান

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগরী গড়ে তুলতে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, বরং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে টেকসই পরিবর্তন আনতে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় জাতীয় স্টেডিয়াম সংলগ্ন স্থানে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়।

এ সময় ইশরাক হোসেন বলেন, আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধের ওপর নির্ভর করে একটি শহরের প্রকৃত সৌন্দর্য। তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিক যদি নিজের বাসার আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে পুরো শহরই পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনের আন্দোলনকে কেবল সরকারি উদ্যোগ হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি একটি সামাজিক আন্দোলন, যেখানে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক কর্মী এবং সাধারণ মানুষ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তার মতে, নগর পরিষ্কার রাখা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, বরং এটি সম্মিলিত দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও ক্লিন ঢাকা কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এই উদ্যোগে যুক্ত হতে হবে, কারণ পরিচ্ছন্ন শহর সবার জন্যই কল্যাণকর।

ইশরাক হোসেন বলেন, ঢাকা শহরের পরিবেশগত সমস্যা দীর্ঘদিনের। জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে শহরটি নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, নগর পরিচ্ছন্নতা শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং জীবনমানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একটি পরিষ্কার শহর রোগবালাই কমায় এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় জনগণও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। তারা রাস্তা পরিষ্কার, ময়লা অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির কাজে যুক্ত হন। এই ধরনের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হলে নগরীর চেহারা বদলে যাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক উদ্যোগ এবং নাগরিক অংশগ্রহণ একসঙ্গে কাজ করলে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি যদি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তাহলে এটি রাজধানীর পরিবেশগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনাও জরুরি।

ইশরাক হোসেন তার বক্তব্যে আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর শহর রেখে যাওয়া বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব। তাই এখন থেকেই সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে নগর পরিচ্ছন্নতায় অবদান রাখতে হবে।

সব মিলিয়ে রাজধানীর গুলিস্তানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি নগর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নতুন করে সচেতনতার বার্তা দিয়েছে। জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত