প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা
একটি বাংলাদেশ অনলাইন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন দাবি করেছে, কাতারে ইসরাইলের হামলার আগে দেশটিকে সতর্ক করা হয়েছিল। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এই তথ্য হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়, যা ইসরাইলি হামলার কয়েক ঘণ্টা পর আসে। আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনার সময় কাতারের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকায় থাকা কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট সাংবাদিকদের জানান, মার্কিন সেনাবাহিনী ট্রাম্প প্রশাসনকে জানিয়েছে যে ইসরাইল হামাসের ওপর আক্রমণ করতে যাচ্ছে। এই হামলা কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থিত কয়েকটি অংশে প্রতিফলিত হতে পারে বলে জানানো হয়। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে নির্দেশ দিয়েছেন আসন্ন হামলার বিষয়ে কাতারকে অবহিত করতে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি কাতার সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারী জানিয়েছেন, ‘আমাদের আগে থেকে হামলার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল’—এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দোহায় ইসরাইলি হামলার পর বিস্ফোরণের শব্দ চলাকালীন সময়ে মার্কিন কর্মকর্তার কাছ থেকে ফোন আসে, যা হামলার আগে হয়নি।
কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি জানিয়েছেন, ইসরাইলি হামলার মাত্র ১০ মিনিট পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে একটি ফোন আসে। তিনি এই হামলাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হামাস জানায়, হামলায় তাদের কমপক্ষে পাঁচ সদস্য নিহত হয়েছেন। হামলার ফলে গাজা ও দোহায় বড় ধ্বংসস্তুপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বেসামরিক জনগণ ব্যাপক আতঙ্কে আছে। আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এবং কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।