এক দশক পর সিলেট উইমেন চেম্বারের নির্বাচন, সভাপতি লুবানা ইয়াছমিন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪ বার
এক দশক পর সিলেট উইমেন চেম্বারের নির্বাচন, সভাপতি লুবানা ইয়াছমিন

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

প্রায় এক দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন। দীর্ঘ সময় পর আয়োজিত এই নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন লুবানা ইয়াছমিন। সহসভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আলেয়া ফেরদৌসি।

গত রোববার সকাল ৯টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত সিলেট প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) মিলনায়তনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সারাদিন শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শেষে রাতে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের ২৭৪ জন ভোটারের মধ্যে ২৫৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা লুবানা ইয়াছমিন পেয়েছেন ১৩৬ ভোট, তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সামিয়া বেগম চৌধুরী পেয়েছেন ১০৯ ভোট।

নির্বাচনে পরিচালক পদে মোট ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে ৯ জন নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বোচ্চ ১৮৯ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী সামা হক চৌধুরী। এ ছাড়া জাকিরা ফাতেমা লিমি চৌধুরী ১৮৭ ভোট, সুমাইয়া সুলতানা চৌধুরী ১৬৯ ভোট, রেহানা আফরোজ খান ১৫১ ভোট, রেহানা ফারুক ১৪৬ ভোট, আসমাউল হাসনা খান ১৪৪ ভোট, গাজী জিনাত আফজা ১৪১ ভোট, শাহানা আক্তার ১৪০ ভোট এবং তাহমিনা হাসান চৌধুরী ১৩৮ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন।

২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে এটাই প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচন। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংগঠনের তৎকালীন সভাপতি স্বর্ণলতা রায় অন্তরালে চলে গেলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পান লুবানা ইয়াছমিন। সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পথচলা।

নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার (মিতা)। ভোটগ্রহণ ও গণনার পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকায় অংশগ্রহণকারী সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ব্যবসায়ী মহলের অনেকেই মনে করছেন, এক দশক পর নির্বাচনের আয়োজন সিলেটের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল। নতুন নেতৃত্ব নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক সুযোগ বৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদারে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সদস্যরা বলছেন, এই নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব বদল নয়, বরং নারী উদ্যোক্তাদের ঐক্য ও ক্ষমতায়নের প্রতীক হয়ে থাকবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিলেট উইমেন চেম্বার এখন নতুন নেতৃত্বে এক নতুন দিগন্তের পথে এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত