সর্বশেষ :
মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল গোয়ালঘর, প্রাণ গেল তিন গরুর, দগ্ধ কৃষক গোপালগঞ্জে মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল যুবকের “রিলিফ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই” — তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ কালো তালিকাভুক্তির বিরুদ্ধে আদালতে আলিবাবা, পেন্টাগনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ ব্রাজিলের লক্ষ্য নকআউট নিশ্চিত করা, স্কটল্যান্ডের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাজধানীতে অভিযান, ডিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি মোশারফ গ্রেফতার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের

নাসা গ্রুপের ১৬ কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৩ বার
নাসা গ্রুপের ১৬ কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সাভারের শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় আবারও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে নাসা গ্রুপের ১৬টি কারখানা বন্ধের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে। বুধবার সকাল থেকে হাজারো শ্রমিক বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর মহাসড়ক অবরোধ করে তাদের বকেয়া বেতন, ভাতা এবং চাকরির নিশ্চয়তা দাবি করেন। হঠাৎ এমন কর্মসূচির কারণে সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।

কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এবং ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্ডার না থাকায় নাসা গ্রুপ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের ১৬টি কারখানার কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখবে। এ ঘোষণা মঙ্গলবার শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলকারখানা প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। এতে শ্রমিকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বুধবার সকালেই রাস্তায় নেমে আসেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিকপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের কথা বলে বেতন প্রদানে গড়িমসি করছে। অথচ হঠাৎ করেই একসঙ্গে ১৬টি কারখানা বন্ধের ঘোষণা শ্রমিক পরিবারগুলোকে এক অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তাদের দাবি, অবিলম্বে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে এবং অন্যান্য পাওনাও দ্রুত মেটাতে হবে। একইসঙ্গে তারা কারখানা পুনরায় চালুরও জোর দাবি জানাচ্ছেন।

ত্রি-পক্ষীয় বৈঠকে চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের আগস্ট মাসের বেতন ১৫ অক্টোবরের মধ্যে, সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ৩০ অক্টোবরের মধ্যে এবং অন্যান্য পাওনা ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে শ্রমিকদের বড় একটি অংশ এ প্রতিশ্রুতিকে অবিশ্বাস্য মনে করছেন। তাদের মতে, অতীতে মালিকপক্ষ একাধিকবার একই ধরনের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তা পূরণ হয়নি। ফলে এবার তারা কোনো রকম গড়িমসি না মেনে সরাসরি রাস্তায় নেমে এসেছেন।

অবরোধ চলাকালে শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কয়েক দফা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের জানান, পরিস্থিতি শুরুতে উত্তপ্ত হলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। কেবল একজন শ্রমিক সামান্য আহত হন এবং সেনা সদস্যরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয়ভাবে জানা যায়, আশুলিয়া ও এর আশপাশের শিল্পাঞ্চলে নাসা গ্রুপের কারখানাগুলোতে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কর্মরত ছিলেন। এই কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেলে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক একযোগে বেকার হয়ে পড়বেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হবে। কারণ নাসা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক বাজারে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছিল। বিদ্যুৎ-গ্যাসের ঘাটতি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় শিল্প খাতের উপর চাপ বাড়ছে। নাসা গ্রুপের সঙ্কট সেই চাপেরই প্রতিফলন।

এই ঘটনায় শ্রমিক সংগঠনগুলোও সরব হয়ে উঠেছে। তারা বলছে, সরকারের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করে শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের এক নেতা অভিযোগ করেন, শিল্প খাতের বড় বড় মালিকরা সব সময় নিজেদের স্বার্থের দিকেই নজর দেন, কিন্তু শ্রমিকরা সংকটে পড়লেও তাদের পাশে কেউ দাঁড়ায় না।

অন্যদিকে, মালিকপক্ষ বলছে, তাদের হাতেও কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। বিদ্যুৎ-গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে, বিদেশি ক্রেতারা নতুন অর্ডার দিচ্ছেন না। উপরন্তু ডলারের সংকটের কারণে কাঁচামাল আমদানিও কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান উৎস হলেও এ খাতের শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মধ্যে বাস করেন। যখনই বাজারে মন্দা দেখা দেয় বা অবকাঠামোগত সমস্যা তৈরি হয়, তখন তার প্রভাব সরাসরি শ্রমিকদের জীবনে গিয়ে পড়ে। তাই সরকারের উচিত কারখানা বন্ধ ঘোষণার আগে শ্রমিকদের পুনর্বাসনের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

এদিকে, অবরোধের কারণে বুধবার সকাল থেকে ঢাকা-আশুলিয়া মহাসড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। হাজারো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েন। স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা সময়মতো পৌঁছতে পারেনি, অফিসগামী কর্মজীবীরাও চরম দুর্ভোগ পোহান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং দুপুর নাগাদ সড়ক পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়।

শ্রমিকরা এখনো আশঙ্কায় রয়েছেন, প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে যদি বেতন ও ভাতা পরিশোধ না করা হয় তবে আবারও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। অন্যদিকে, সরকার বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের পাওনা যাতে দ্রুত মেটানো হয় সে বিষয়ে মালিকপক্ষকে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

সব মিলিয়ে নাসা গ্রুপের ১৬টি কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এই সংকট কেবল অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক প্রভাবও ফেলতে পারে। হাজারো শ্রমিক পরিবারের জীবনযাত্রা এখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে দাঁড়িয়ে। আগামী কয়েক মাসে পাওনা পরিশোধ এবং কারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে মালিকপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই এখন সবার নজরে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত