ইরান দূতাবাসে জামায়াতের সংহতি: ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন নেতারা

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫
  • ৭৬ বার
ইরান দূতাবাসে জামায়াতের সংহতি: ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন নেতারা

প্রকাশ: ৩০শে জুন’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির শীর্ষস্থানীয় দুই নেতার একটি প্রতিনিধি দল সোমবার (৩০ জুন) সকালে ঢাকার গুলশানে অবস্থিত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাসে গিয়ে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন এবং সরাসরি ইরানি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে গভীর সমবেদনা জানান।

জামায়াতের প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলের নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা দূতাবাসে পৌঁছান এবং ইরানের রাষ্ট্রদূত মানসুর চাভোসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে জামায়াত নেতারা সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলাকে “যুদ্ধবাজ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী” বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, ইসরাইল জাতিসংঘের সনদ ও আন্তর্জাতিক নীতিমালা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সরাসরি আগ্রাসন চালিয়েছে। এ হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেনা কর্মকর্তা, পরমাণু বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলেও তারা জানান।

ডা. তাহের ইরান দূতাবাসে রাখা শোক বইতে স্বাক্ষর করে নিহতদের ‘শহীদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একইসঙ্গে আহত ও নিহতদের পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ইরানি জনগণের ধৈর্য ও সাহসিকতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

সাক্ষাতে জামায়াত নেতারা বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে, ইসরাইলি আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, এই বর্বরতা শুধু একটি দেশের ওপর হামলা নয়, বরং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর ওপর এক প্রকাশ্য আঘাত। তারা বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ এবং মুসলিম বিশ্বের প্রতি আমাদের ঐতিহাসিক সহমর্মিতা রয়েছে। ইরানের ওপর হামলা আমাদের সবাইকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

জামায়াত নেতারা আশা প্রকাশ করেন, এই সংকটময় মুহূর্তে মুসলিম বিশ্ব একতাবদ্ধ হয়ে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষে একটি শক্তিশালী অবস্থান নেবে।

সাক্ষাতে ইরানের রাষ্ট্রদূত মানসুর চাভোসি জামায়াত নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, ইরানের জনগণ বাংলাদেশের জনগণের এই সহমর্মিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণকে স্মরণে রাখবে। তিনি জানান, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ইরান সবসময় শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী, তবে আত্মরক্ষা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না।

জামায়াত প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের জানান, তারা বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একইসঙ্গে তারা এই হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো নিন্দা ও প্রতিক্রিয়া কামনা করেন।

এই সফর এমন এক সময় হলো, যখন ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের একাধিক হাই-প্রিসিশন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও গবেষণা কেন্দ্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এই হামলাগুলোর ফলে শুধুমাত্র ইরান নয়, বরং গোটা মুসলিম বিশ্বে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে।

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের আন্তর্জাতিক মুসলিম ঐক্যের ধারক ও বাহক হিসেবে তুলে ধরতে চায়। এই প্রেক্ষাপটে ইরান দূতাবাসে তাদের শোক প্রকাশ এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদ এক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এই ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশের সরকার ও কূটনৈতিক মহলে কী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, সেটি সময়ই বলে দেবে।

তবে নিঃসন্দেহে বলা যায়, ইরান দূতাবাসে জামায়াতের এই সফর কেবল একটি কূটনৈতিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়—বরং এটি মুসলিম বিশ্বের প্রতি রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংহতির একটি দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com