লাউয়াছড়ায় হঠাৎ পার্কিং নিষেধে বিপাকে পর্যটকরা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৫ বার
লাউয়াছড়ায় হঠাৎ পার্কিং নিষেধে বিপাকে পর্যটকরা

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে হঠাৎ করে গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পর্যটকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বন বিভাগ পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের কারণ দেখিয়েই ১ অক্টোবর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে, তবে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা না থাকায় আগত পর্যটকরা নিরাপত্তা ঝুঁকি ও যান্ত্রিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন।

স্থানীয়রা ও উদ্যানে আসা পর্যটকরা জানিয়েছেন, আগে উদ্যানে প্রবেশদ্বারের কাছাকাছি গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা ছিল। সেখানেই দর্শনার্থীরা গাড়ি রেখে উদ্যানের ভেতরের অংশ ঘুরতে পারতেন। কিন্তু হঠাৎ করেই এই সুবিধা বাতিল হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের ধারে গাড়ি রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে, একই সঙ্গে তারা অতিরিক্ত হেঁটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। কিছু পর্যটক পার্কিং না পেয়ে ভ্রমণ মাঝপথেই বাতিলও করেছেন।

পর্যটকদের অভিযোগ, সম্প্রতি উদ্যানে প্রবেশদ্বারের পাশে ‘আই লাভ কমলগঞ্জ’ লেখা একটি ফলক স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এই স্থাপনাটি সেই জায়গায় করা হয়েছে যেখানে আগে গাড়ি পার্কিং করা হতো। ফলস্বরূপ, নতুন নির্দেশের পর এই পার্কিং সুবিধা বন্ধ করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা বলেন, তারা টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু গাড়ি রাখার স্থান না পাওয়ায় ভেতরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন না। একাধিক পর্যটক পার্কিং সমস্যার কারণে ঘুরে ফিরে গেছেন।

লাউয়াছড়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে লাউয়াছড়ায় গাড়ি পার্কিং বন্ধ করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা।” তিনি আরও বলেন, “পর্যটকদের ভোগান্তি কমানোর জন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থার দিকে নজর দিচ্ছি এবং বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা জামিল মোহাম্মদ খানও এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আপাতত পার্কিং বন্ধ রাখা হয়েছে, তবে পর্যটকদের যেন অযাচিত সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগ আরও চিন্তাভাবনা করছে।

স্থানীয় পর্যটকরা মনে করছেন, পার্কিং সুবিধা হঠাৎ বন্ধ হওয়ায় উদ্যানে আসা মানুষের সংখ্যা কমলেও যারা এসেছে, তাদের জন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে। দূর থেকে আসা পর্যটকরা গাড়ি রাখার জায়গা না পেয়ে দেরিতে বা মাঝপথে ফিরছেন, যা পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ীও বলছেন, পর্যটকরা যেমন ঝামেলার মুখে পড়ছেন, তেমনি তারা খরচও কমাচ্ছেন, যা এলাকার অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় উদ্যানে পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণ একসঙ্গে চলা সম্ভব। এর জন্য পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করা, ভিন্ন জায়গায় পার্কিং জোন তৈরি করা এবং দর্শনার্থীদের জন্য আগে থেকে তথ্য প্রদান করা জরুরি। হঠাৎ করে নতুন নীতি কার্যকর করা হলে পর্যটকরা বিপাকে পড়েন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও প্রভাবিত হয়।

স্থানীয়রা আশ্বস্ত করেছেন, বন বিভাগ বিষয়টি সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করছে। সম্ভাব্য সমাধানের মধ্যে রয়েছে উদ্যানের বাইরে নিয়ন্ত্রিত পার্কিং এলাকা তৈরি করা এবং পর্যটকরা সহজে সেই এলাকায় তাদের গাড়ি রাখতে পারার ব্যবস্থা করা। এছাড়া, বন বিভাগ সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নির্দেশিকা ও সাইনবোর্ডের মাধ্যমে পর্যটকদের জানাতে চাইছে, যাতে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কোনো সমস্যা না হয়।

পর্যটকরা আশা করছেন, বন বিভাগের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। এই ধরনের পদক্ষেপ যদি পর্যটকবান্ধব হয়, তবে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে আসা মানুষদের জন্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও আনন্দদায়ক হবে। বন বিভাগের এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে সমস্যায় পড়া পর্যটকরা এ বছরের পর্যটন মৌসুমে অতিরিক্ত ঝামেলায় পড়েছেন, তবে তারা বন বিভাগের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান আশা করছেন।

এই ঘটনার মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা উঠে এসেছে, যে কোনো জাতীয় উদ্যানে নতুন নীতি বা নির্দেশ কার্যকর করার আগে পর্যটকদের সচেতন ও প্রস্তুত করা জরুরি। পূর্ব পরিকল্পনা ও যথাযথ নির্দেশনা ছাড়া এমন হঠাৎ পদক্ষেপ পর্যটকদের ভোগান্তি তৈরি করে এবং পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বন বিভাগের উচিত, আগামীতে এমন পদক্ষেপ গ্রহণের আগে পর্যটক এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে নীতি প্রয়োগ করা।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং পর্যটন উন্নয়ন একসাথে পরিচালনার ক্ষেত্রে বন বিভাগের পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং আনন্দদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে, এটি দেশের পর্যটন খাতের জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত