সেনাবাহিনীকে গাজায় ‘অভিযান থামাতে’ বলল ইসরাইল

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪১ বার
সেনাবাহিনীকে গাজায় ‘অভিযান থামাতে’ বলল ইসরাইল

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের মোড় ঘুরলো। ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে গাজা সিটিতে চলমান দখল অভিযানের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখতে এবং সামরিক পদক্ষেপকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য। দেশটির রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত আর্মি রেডিও এই খবর নিশ্চিত করেছে।

আর্মি রেডিওর প্রতিবেদনে জানানো হয়, সরকারের রাজনৈতিক মহল স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে সেনাবাহিনী এখন থেকে কেবল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলে দখল অভিযান স্থগিত করা হয়েছে এবং আপাতত নতুন কোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

এই খবর প্রকাশ্যে আসার আগে হামাস যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার আলোকে হামাস জানিয়েছে, তারা জীবিত ও মৃত সব ইসরায়েলি জিম্মি মুক্ত করতে রাজি। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি এবং গাজার প্রশাসনিক হস্তান্তর নিয়ে আলোচনায় বসার আগ্রহও প্রকাশ করেছে।

হামাসের এমন প্রতিক্রিয়ার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানায়, তারা এখন ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে প্রস্তুত। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, সব জিম্মিকে মুক্ত করার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতায় কাজ চালিয়ে যাবে এবং যুদ্ধ সমাপ্তির প্রক্রিয়া ইসরায়েলের নির্ধারিত নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবেই এগিয়ে যাবে।

এদিকে হামাসের সাড়া পাওয়ার পর ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হামাসের সর্বশেষ বিবৃতি প্রমাণ করে যে তারা দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য প্রস্তুত। তাই বন্দিদের দ্রুত নিরাপদে মুক্ত করতে হলে ইসরায়েলকে অবিলম্বে আক্রমণ থামাতে হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং এই আলোচনার লক্ষ্য শুধু গাজা নয়, বরং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই গাজায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা এবং মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির আলোচনায় অগ্রগতি হলে অন্তত সাময়িকভাবে হলেও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

তবে পরিস্থিতি কতটা স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে অভিযান থামানোর নির্দেশ একদিকে যেমন শান্তি প্রক্রিয়াকে গতি দিতে পারে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণও তৈরি করতে পারে। হামাসের অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে আপাতত সামরিক অভিযান স্থগিত হলেও ভবিষ্যতে এই সংঘাত আবারও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান হামলা, অবরোধ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত পরিস্থিতিতে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে অবকাঠামো, সংকট তৈরি হয়েছে খাদ্য ও চিকিৎসা সরবরাহে। এই অবস্থায় যুদ্ধবিরতির যেকোনো সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও প্রশাসনিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সমন্বয়, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং উভয় পক্ষের বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই নতুন মোড় সত্যিই টেকসই শান্তির পথ খুলে দিতে পারবে কিনা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত