সর্বশেষ :
মালদ্বীপে রেমিট্যান্স ব্যবস্থায় নতুন উদ্যোগ, স্থানীয় মুদ্রায় পাঠানোর সুযোগ নিয়ে বৈঠক তারেক রহমানের সঙ্গে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আলোচনা ‘এটা ঘটবেই’: ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শক পাঠানো হবে, জানাল আইএইএ ২৪ কোটি টাকার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি, ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েও হামের টিকা পায়নি অনেক শিশু, উদ্বেগ বাড়ছে স্বাস্থ্যখাতে টাঙ্গাইলে ভাইরাল কৃষক কবির হোসেনের দাফন সম্পন্ন, শেষ বিদায়ে শোকে ভারী জনপদ সঠিক নীতিসহায়তা পেলে রফতানি আয় ১৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর সম্ভাবনা: বাণিজ্যমন্ত্রী মশার কয়েলের আগুনে পুড়ল গোয়ালঘর, প্রাণ গেল তিন গরুর, দগ্ধ কৃষক গোপালগঞ্জে মহাসড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল যুবকের “রিলিফ নয়, স্থায়ী সমাধান চাই” — তিস্তাপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ

আজকের স্বর্ণের দাম: ৫ অক্টোবর ২০২৫

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৭১ বার
বাংলাদেশ সোনার দাম আজ

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারো ঊর্ধ্বমুখী। সম্প্রতি কয়েক দফা কমার পর আবারও স্বর্ণের দর বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শনিবার (৪ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৯৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে স্বর্ণের দাম। রোববার (৫ অক্টোবর) থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

স্থানীয় বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম এখন দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা। এটি এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। আগের দিন শনিবার প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮৪ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ২ হাজার ১৯২ টাকা।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। বিশ্ব বাজারের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক স্বর্ণের দর এবং স্থানীয় চাহিদা-যোগানের সমন্বয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বছরের শুরু থেকে স্বর্ণের দামে বেশ কিছু ওঠাপড়া দেখা গেছে, যা ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে।

নির্ধারিত নতুন দাম অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৯৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৬৫১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৪ হাজার ২৫৩ টাকা।

বিশ্বব্যাপী স্বর্ণের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারেও তা প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশে তেজাবি স্বর্ণের দামও বাড়ছে। এছাড়া, রূপার চাহিদা কমার পরও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ স্বর্ণের দিকে বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারে দাম প্রভাবিত হচ্ছে।

স্বর্ণের বাজারে এ ধরনের ওঠাপড়া ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের উচিত বাজার পরিস্থিতি মনিটর করা এবং সঠিক সময়ে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া। স্বর্ণ বিনিয়োগকে সাধারণত নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে দেখা হয়, বিশেষ করে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতারা এখন মূলত ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ কেনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। বিবেচনা করা হচ্ছে, গহনা তৈরিতে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের চাহিদা সর্বাধিক। এছাড়া, ২১ ও ১৮ ক্যারেট স্বর্ণও বাজারে সচল, তবে এদের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।

বাজার বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বর্ণের দাম প্রায় সরাসরি সম্পর্কিত। আন্তর্জাতিক দর বাড়লে বাংলাদেশে স্বর্ণের দামও স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এ বছর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আর্থিক সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং বাজারে অস্থিরতার কারণে স্বর্ণের দামে ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, স্বর্ণের বাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় বাজারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনা করা হচ্ছে। দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় চাহিদা-যোগান, আন্তর্জাতিক দর, লেনদেনের পরিমাণ এবং বাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়।

ক্রেতারা জানিয়েছেন, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির খবর তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য উদ্বুদ্ধ করছে। অনেকে মনে করছেন, স্বর্ণ এখনও সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের উপায়। বিশেষ করে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা বা মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকায় স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে পারে।

জুয়েলারি শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বিক্রয় প্রক্রিয়া সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। দোকানগুলোতে ক্রেতাদেরকে নতুন দাম অনুযায়ী তথ্য প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া স্বর্ণের শুদ্ধতা এবং ভরিপ্রতি মূল্য নির্ধারণে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে।

বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক থাকবেন। অল্প সময়ে অনেক বেশি ক্রয় বা বিক্রয় ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর ক্রেতাদের সাবধানে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার মতো ওঠানামা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারও সমন্বয় করছে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে স্বর্ণ বিনিয়োগ আরও আকর্ষণীয় হতে পারে।

স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত তথ্য এবং নতুন দাম সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বাজুসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। যেসব ক্রেতা বা বিনিয়োগকারী বাজার পর্যবেক্ষণ করেন, তারা নিয়মিত এই তথ্য অনুসরণ করছেন। এছাড়া জুয়েলারি দোকানগুলোও গ্রাহকদের সুবিধার জন্য নতুন দাম অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করছে।

সার্বিকভাবে, ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে দেশের স্বর্ণের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম সর্বাধিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, স্থানীয় চাহিদা এবং বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের সমন্বয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্বর্ণের বাজারে এই পরিবর্তন ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে বিবেচিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত