সিলেট অভিবাবকহীন, নাকি ইচ্ছা করেই প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের প্রতি অবহেলা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৫৭ বার

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

এক সময় দেশের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত সিলেট আজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে মারাত্মক স্থবিরতার মুখে পড়েছে। জনমনে প্রশ্ন—সিলেট কি সত্যিই অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে, নাকি সচেতনভাবে এই অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম থামিয়ে দেওয়া হচ্ছে? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে প্রবাসী মহল পর্যন্ত এখন একটাই আলোচনা, কেন সিলেটের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বারবার থেমে যাচ্ছে, অথচ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে একের পর এক বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুর পর থেকে সিলেটের দৃশ্যমান কোনো বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প আর বাস্তবায়িত হয়নি। একসময় যে সিলেট ছিল দেশের অন্যতম আধুনিক ও উন্নত অঞ্চলের প্রতীক, সেখানে এখন উন্নয়নের চাকাই যেন থেমে গেছে। রাজধানী ঢাকায় এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যেখানে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জোয়ার, সেখানে সিলেটের অবস্থা একেবারেই ভিন্ন।

ঢাকা-সিলেট চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প, যা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক ও পর্যটন যোগাযোগে বিপ্লব ঘটাতে পারত, সেটি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির। অথচ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পণ্য ও যাত্রী চলাচল করে। প্রকল্পের ধীরগতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করছে না, বরং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে তুলছে।

অন্যদিকে, রেল যোগাযোগেও সিলেট এখন অনেকটা পশ্চাদপদ অবস্থায় রয়েছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে যেমন যশোর, খুলনা ও চট্টগ্রামে আধুনিক ট্রেন সেবা সম্প্রসারিত হয়েছে, সিলেটে সেখানে কোনো নতুন রেল সংযোগ যুক্ত হয়নি। সিলেট-কক্সবাজার রেলসেবা চালুর দাবি বহু বছর ধরে উঠলেও তা এখনো কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ।

সিলেটের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে—তাদের প্রবাসী নির্ভর অর্থনীতি দেশের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে, কিন্তু সেই অনুপাতে সিলেট নিজেই উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশই আসে সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের কাছ থেকে, কিন্তু সে অর্থের একটি ক্ষুদ্র অংশও স্থানীয় উন্নয়নে প্রতিফলিত হয় না।

স্থানীয় বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজ মনে করেন, সিলেটবাসী এবং প্রবাসীদের আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের অধিকার দাবি করতে হবে। তারা বলছেন, প্রশাসনের অদক্ষতা ও রাজনৈতিক অনিচ্ছার কারণে সিলেট ধীরে ধীরে উন্নয়ন অগ্রগতির মানচিত্র থেকে পিছিয়ে পড়ছে। অথচ এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির এক শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে অবদান রেখে চলেছে।

অন্যদিকে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকাণ্ড নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। শহরের সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এমনকি জনস্বাস্থ্য খাতেও ন্যূনতম উন্নয়ন দৃশ্যমান নয়। অনেকেই মনে করেন, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেটের উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়, এটি জাতীয় অর্থনৈতিক ভারসাম্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। প্রবাসী আয়ের একটি বড় অংশ যদি স্থানীয় উন্নয়নে ব্যয় না হয়, তবে দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সিলেটবাসীর প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের স্থবির উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করবে। ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সিলেটও যেন পুনরায় উন্নয়নের গতিতে ফিরতে পারে—এই দাবি এখন সিলেটের প্রতিটি মানুষের কণ্ঠে এক সুরে উচ্চারিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত