কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের তীব্র অভিযোজন: আরএসএস ও জায়নবাদীদের ‘যমজ ভাই’ আখ্যা, মোদীকে ‘ট্রাম্পের বিনয়ী দাস’ বলেও মন্তব্য

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮৮ বার
কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের তীব্র অভিযোজন: আরএসএস ও জায়নবাদীদের 'যমজ ভাই' আখ্যা, মোদীকে 'ট্রাম্পের বিনয়ী দাস' বলেও মন্তব্য

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক। একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নয়াদিল্লি: ভারতের কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ও বামজোটের শীর্ষ নেতা পিনারাই বিজয়ন ভারতীয় জনতা পার্টির মাতৃসংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং ইসরাইলের জায়নবাদী গোষ্ঠীকে ‘যমজ ভাই’ আখ্যা দিয়েছেন। তার এই বিতর্কিত মন্তব্য এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট ও মুদ্রা উন্মোচনের পরদিনই। এ সময় তিনি মোদীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বিনয়ী দাস’ হিসেবেও উল্লেখ করে ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির উপর কঠোর সমালোচনা করেন।

বৃহস্পতিবার কেরালার উপকূলীয় শহর কান্নুরে এক জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় পিনারাই বিজয়ন তার এই অভিমত ব্যক্ত করেন। ভারতীয় শীর্ষ সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি সেখানে বলেন, “ইসরাইলের জায়নবাদী শক্তি ও ভারতের আরএসএস—এরা পরস্পরের যমজ ভাই। উভয়ের আদর্শ ও কার্যপদ্ধতিতে অস্বীকার করার মতো মিল রয়েছে। উভয় সংগঠনই একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পরিচয়ের উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী।”

তিনি তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একজন বিনয়ী দাসে পরিণত হয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন যখন ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি বাড়িয়েছে, যখন আমেরিকা ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বৃদ্ধি করেছে, তখন মোদী সরকার একটি শব্দও বলেনি। একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হলে এর জবাবে রক্ত ​​বইতো। কিন্তু আমরা এখন এমন এক শাসক দেখছি, যিনি বিদেশি শক্তির কাছে নতি স্বীকার করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছেন না।”

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বৃদ্ধি করলেও প্রধানমন্ত্রী মোদী সাড়া না দেওয়ার অভিযোগ আরও জোরালো করেন। তিনি বলেন, “মোদী সরকারের এই নীরবতা ভারতের স্বার্থের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। একজন দাস যেমন মনিবের সব সিদ্ধান্ত মেনে নেয়, তেমনই আচরণ করছে ভারত সরকার।”

এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্বের টুইটার) একটি পোস্টে তিনি আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপনকে ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক নীতির প্রতি ‘গুরুতর অপমান’ বলে বর্ণনা করেন। তার এই বক্তব্যের পাশাপাশি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (মার্ক্সবাদী) সাধারণ সম্পাদক ডি রাজাও আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন।

ডি রাজা বলেন, “আরএসএসের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস নিয়ে গর্ব করার কিছু নেই। এটি একটি প্রতিক্রিয়াশীল, বিভাজন সৃষ্টিকারী ও সাম্প্রদায়িক সংগঠন, যা দেশের সমাজকে দ্বিখণ্ডিত করছে এবং ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য একটি স্পষ্ট হুমকি।” তিনি আরও দাবি করেন যে, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আরএসএস কী ভূমিকা রেখেছিল, সে সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। ডি রাজা ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় যখন দেশবাসী ব্রিটিশ বিতাড়নের জন্য লড়াই করছিল, তখন আরএসএস কী ভূমিকা পালন করেছিল, তা জাতির জানা উচিত।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পিনারাই বিজয়নের এই মন্তব্য কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং এটি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ বনাম সাম্প্রদায়িক শিবিরের মধ্যে চলমান তীব্র আদর্শিক লড়াইয়েরই প্রতিফলন। আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপনকে ঘিরে দেশজুড়ে এই বিতর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হচ্ছে বলে মনে করা হয়।

উল্লেখ্য, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও মুদ্রার উদ্বোধন করেন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত সহ সংগঠনের বিভিন্ন শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এই ঘটনার পরপরই বিরোধী দলগুলোর তরফ থেকে আরএসএসের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনার নতুন一轮 শুরু হয়েছে। পিনারাই বিজয়নের এই বক্তব্যকে সেই ধারাবাহিকতায় দেখা হচ্ছে। ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই বিতর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত