প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে অস্ত্রবাহী সিএনজিসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে ঈদগাঁও বাসস্টেশন এলাকার আনু মিয়া পেট্রোল পাম্পের কাছে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম জাফর আলম (৩৭)। তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম গজালিয়া এলাকার সিদ্দীক আহমদের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঈদগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদা ইয়াছমিনের নেতৃত্বে এসআই বদিউল আলমের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টিম অভিযান চালায়। অভিযানে সন্দেহজনক একটি সিএনজি তল্লাশি করে একনলা অবৈধ বন্দুক উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই সিএনজিচালক জাফর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঈদগাঁও থানার ওসি ফরিদা ইয়াছমিন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত জাফর আলম দীর্ঘদিন ধরে একটি ডাকাত চক্রের সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাফর ডাকাত দলের সদস্য বলে স্বীকার করেছে। পুলিশের ধারণা, সে সম্প্রতি এলাকায় সংঘটিত কয়েকটি ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনাতেও জড়িত থাকতে পারে।
ওসি ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য ছিল, ওই সিএনজি দিয়ে অস্ত্র পরিবহন করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী অভিযান চালানো হয়। আমরা তাকে হাতেনাতে ধরতে সক্ষম হই। জাফরের কাছ থেকে উদ্ধার করা বন্দুকটি অবৈধভাবে তৈরি, যা ডাকাতির মতো অপরাধে ব্যবহৃত হতে পারে।”
স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি ঈদগাঁও বাসস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় রাতের বেলা ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে গিয়েছিল। এরই মধ্যে জাফরের গ্রেপ্তার স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি এনেছে। এলাকাবাসীর অনেকে মনে করেন, তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে একটি সক্রিয় ডাকাত চক্রের কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, আটক জাফর আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তিনি অতীতে কয়েকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছিলেন। তবে প্রতিবারই অল্প সময়ের মধ্যে গা-ঢাকা দেন। তার গ্রেপ্তারের পর এখন পুলিশ তার সহযোগীদের খুঁজে বের করতে তৎপর হয়েছে।
ঈদগাঁও থানার এক তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, “আমরা জাফরের ফোন কল রেকর্ড এবং যোগাযোগের নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ করছি। সে একা নয়, একটি সংঘবদ্ধ দলের অংশ হিসেবে কাজ করছিল। এই চক্রটি মূলত কক্সবাজার সদর ও রামু এলাকার মধ্যবর্তী সড়কগুলোয় সক্রিয় ছিল।”
ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। এলাকাবাসীর অনেকে বলছেন, ঈদগাঁও বাসস্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছিল। যাত্রীবাহী সিএনজির আড়ালে অস্ত্র ও মাদক পরিবহনের অভিযোগও নতুন নয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, অভিযানের পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে যাতে কোনো অপরাধচক্র নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।
ওসি ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, “আমরা চাই ঈদগাঁওকে নিরাপদ রাখতে। যারা শান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
গ্রেপ্তারকৃত জাফর আলমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তাকে আদালতে পাঠানোর আগে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঈদগাঁওয়ের সাধারণ মানুষ এখন আশাবাদী—এই অভিযান শুধু একজন অপরাধীকে নয়, বরং পুরো অপরাধ নেটওয়ার্ককে উন্মোচন করবে।