শিকলবন্দি অবস্থায় উদ্ধার গাজীপুরের ইমাম মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৬৪ বার
মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানী

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গাজীপুরের টঙ্গী টিঅ্যান্ডটি এলাকার বিটিসিএল জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানীকে অপহরণের একদিন পর পঞ্চগড়ে শিকলবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় সদর থানার হেলিপ্যাড বাজার এলাকার একটি রাস্তার পাশে গাছের সাথে হাত-পা লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় অচেতন অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুফতি মাদানীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে।

তার ছেলে আব্দুল্লাহ গণমাধ্যমকে জানান, “আমার বাবা গতকাল বুধবার ফজরের নামাজের পর হাঁটতে বের হয়েছিলেন। এরপর থেকেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। টঙ্গী পূর্ব থানায় আমরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। আজ সকালে খবর পাই, তিনি পঞ্চগড়ে উদ্ধার হয়েছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হেলিপ্যাড বাজার সংলগ্ন রাস্তার পাশে এক ব্যক্তিকে শিকলবন্দি অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তারা প্রথমে হতভম্ব হয়ে যান। পরে কাছাকাছি গিয়ে চিনতে পারেন, তিনি টঙ্গীর পরিচিত আলেম মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানী। বিষয়টি দ্রুত সদর থানা পুলিশকে জানানো হয়।

এদিকে অপহরণ ও উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের ঝড়। অনেকে বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তার দেওয়া কিছু খুতবা ও বক্তব্যের পর থেকেই তিনি হুমকির মুখে ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, জুমার নামাজের খুতবায় মুফতি মাদানী নিয়মিত সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, পরিবারে মূল্যবোধের অবনতি, তরুণদের অবাধ সম্পর্ক, এবং হিন্দু ধর্মীয় সংগঠন ইসকনের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের বিপথে নেওয়ার অভিযোগসহ নানা সামাজিক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য রাখতেন।

তার একাধিক খুতবায় আন্তধর্মীয় সম্পর্ক এবং সামাজিক নৈতিকতার বিষয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করার পর থেকেই তিনি নানাভাবে হুমকিপূর্ণ চিঠি পেতে শুরু করেন বলে জানা গেছে। তিনি এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মসজিদ কমিটির সাথেও আলোচনা করেছিলেন।

বুধবার সকালে নিখোঁজ হওয়ার পর সকাল ১১টা পর্যন্ত তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সচল ছিল। এরপর হঠাৎ সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবার, মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় মুসল্লিরা তখন থেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহিল জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং মুফতি মুহিবুল্লাহ মাদানীকে উদ্ধার করি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। ঘটনাটি রহস্যজনক, তদন্ত চলছে।”

অন্যদিকে, গাজীপুরের স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে মুফতি মাদানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। তারা তার হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া ও পরে দূরবর্তী জেলায় শিকলবন্দি অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় হতবাক।

এ ঘটনার পর ধর্মীয় মহল থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, কে বা কারা তাকে অপহরণ করল এবং কেন পঞ্চগড়ের মতো দূরবর্তী জেলায় নিয়ে গিয়ে শিকলবন্দি করে ফেলে রাখা হলো?

এখনও পর্যন্ত ঘটনার পেছনের কারণ বা অপহরণকারীদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন জেলা পুলিশের মধ্যে সমন্বয় করে তদন্ত চালানো হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। মুফতি মাদানীর ছেলে আব্দুল্লাহ বলেন, “আমরা শুধু চাই, যারা এ নৃশংস কাজ করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।”

ঘটনার রহস্য উদঘাটন না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় সমাজ ও ধর্মীয় অঙ্গনে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধুমাত্র একটি অপহরণ নয়, বরং এর পেছনে আরও গভীর উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকতে পারে।

একজন সমাজ বিশ্লেষক বলেন, “যদি সত্যিই তার ধর্মীয় বক্তব্য বা সামাজিক সমালোচনার কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তবে এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় নেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মুফতি মাদানী উদ্ধার হলেও, এই অপহরণের পেছনের রহস্য এখনো গভীর অন্ধকারে। সমাজের নানা মহল এখন একটাই উত্তর খুঁজছে— কে এবং কেন এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটালো?

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত