প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিজিএমইএ-এর প্রেস রিলিজগুলো পড়লে মনে হতে পারে যেন প্রতিটি কারখানা বন্ধ হওয়া দেশের শিল্পনীতির ব্যর্থতা, যা সরকারের দায়। তবে তিনি মনে করান, সমস্যার মূলটি কিছুটা ভিন্ন। কিছু শিল্প উদ্যোক্তা মনে করেন তারা শহরের একমাত্র বুদ্ধিমান এবং বাকি সবাই “আবুল”, অর্থাৎ অবহেলিত বা অদক্ষ।
শুক্রবার নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি বিশদভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এক সময় বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি তৈরি পোশাক কারখানা (আরএমজি) কার্যক্রম চালাত। এর মধ্যে অনেক কারখানা আবাসিক এলাকায় অবস্থান করত এবং এক ভবনে একাধিক কারখানা থাকত, যেখানে শতাধিক শ্রমিক কাজ করত। তিনি উদাহরণ হিসেবে রানা প্লাজা কমপ্লেক্সের ফ্যান্টম অ্যাপারেলস উল্লেখ করেন, যা এক সময় পাঁচটি কারখানার অংশ ছিল।
শফিকুল আলম জানান, ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে মালিবাগে ছোট ছোট কারখানা দেখা যেত, যেখানে প্রায় ১০০ জন শ্রমিক কর্মরত থাকত। তবে ২০১০-এর দশকে সেগুলোর অনেক বন্ধ হয়ে গেছে বা ঢাকার উপকণ্ঠে স্থানান্তরিত হয়েছে। গাজীপুরে একসময় শত শত স্যান্ড ব্লাস্টিং ইউনিট কাজ করত, যা জিন্সের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক মানে কমপ্লায়েন্ট নয়। ২০১০-এর দশকের শেষের দিকে এসব কারখানা বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে বাংলাদেশে সক্রিয় গার্মেন্টস কারখানার সংখ্যা দুই হাজারের সামান্য বেশি। তবু রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে আগের দশকের তুলনায় চার থেকে পাঁচ গুণ। ১৯৯১ সালে গার্মেন্টস রপ্তানি প্রথমবারের মতো এক বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল, আর এখন কিছু বড় প্রতিষ্ঠান যেমন ইয়াংওয়ান বা হা-মীম গ্রুপ এক বিলিয়ন ডলারের বেশি পোশাক রপ্তানি করছে।
প্রেস সচিব বলেন, গত ২৫ বছরে প্রায় ৩,০০০ গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে কমপ্লায়েন্স সমস্যা, দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং অদক্ষতা অন্যতম কারণ। কিছু কারখানা ঋণ বোঝা এবং অনিয়মের কারণে বন্ধ হয়েছে। তবে শ্রমিকদের জন্য ভালো সুবিধাসম্পন্ন এবং বড়ো কারখানায় স্থানান্তর হওয়ায় এটি দেশের জন্য নেতিবাচক নয়।
তিনি আরও বলেন, অনিরাপদ বা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কারখানার দরকার নেই। বড় কারখানা সাধারণত উন্নত কমপ্লায়েন্সের অধীনে চলে। তবে বিজিএমইএ-এর প্রেস রিলিজগুলো পড়লে মনে হয় প্রতিটি কারখানা বন্ধ হওয়া সরকারের ব্যর্থতা। একই সাথে, কিছু সাংবাদিক ও ‘বাম-অন’ কমিউনিস্টরা এটিকে শিল্প পতনের সংকেত হিসেবে তুলে ধরেন, যদিও তারা শ্রমিকদের নতুন, বড়ো এবং উন্নত মানের কারখানায় স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করেন না।
শফিকুল আলম বলেন, ২০০০-এর দশকের শুরুতে বাংলাদেশে প্রায় তিন মিলিয়ন গার্মেন্টস শ্রমিক ছিল, যা এখন প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন। তিনি মন্তব্য করেন, সমস্যার মূল হলো কিছু উদ্যোক্তা ভাবেন তারা শহরের একমাত্র বুদ্ধিমান, আর বাকিরা “আবুল”।
তিনি শেষে বলেন, দেশের শিল্পের বৃদ্ধি ও রপ্তানি বৃদ্ধিতে কারখানার বন্ধ হওয়াকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিত নয়। বরং নিরাপদ, উন্নত কমপ্লায়েন্ট এবং কার্যকরী কারখানার বিকল্প ব্যবস্থা দেশের জন্য বড় অর্জন।
শফিকুল আলমের এই মন্তব্য শিল্প ক্ষেত্রের বর্তমান পরিস্থিতি, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর সমালোচনামূলক দৃষ্টিকোণ তুলে ধরে। বাংলাদেশে রপ্তানিমুখী শিল্পের শক্তি ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও এ মন্তব্যের মাধ্যমে পাঠকের সামনে স্পষ্টভাবে এসেছে।