লিবিয়া থেকে দেশে ফিরল আরো ৩১০ বাংলাদেশি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৪৭ বার
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরল আরো ৩১০ বাংলাদেশি

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা, একটি বাংলাদেশ অনলাইন

লিবিয়া থেকে আরো ৩১০ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় অবস্থানরত এই নাগরিকরা অবৈধভাবে ও বৈধভাবে দেশটিতে ছিলেন, এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসতে আগ্রহী ছিলেন। তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া লিবিয়ার সরকারের সহায়তায় সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল ত্রিপলীর অভ্যর্থনা কেন্দ্রে এদের বিদায় জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার।

রাষ্ট্রদূত জানান, এসব বাংলাদেশি অভিবাসী যারা নিজ দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন, তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, “লিবিয়া থেকে দেশে ফিরে আপনাদের জীবনের নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে হবে। আপনাদের পরিবারে ফিরে যাওয়া এবং দেশে ফিরেও যদি স্থানীয় পর্যায়ে মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখেন, তাহলে সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

লিবিয়াতে গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘদিন ধরে চলমান। এর ফলে সেখানে অবস্থানরত অনেক বিদেশি শ্রমিক, বিশেষত বাংলাদেশিরা বিপদে পড়েন। লিবিয়াতে নানা ধরনের মানবিক সংকট, পাচার, এবং অভিবাসন অনিয়মের কারণে বহু বাংলাদেশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে যাতে করে দেশের নাগরিকদের দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফেরানো যায়।

বর্তমানে ত্রিপলী এবং বেনগাজীতে আরও কিছু বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত দেশে ফেরাতে বাংলাদেশের দূতাবাস কাজ করছে। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, তাদেরও দ্রুত দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার বাংলাদেশের প্রত্যাবাসিত নাগরিকদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, “লিবিয়া থেকে ফিরলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং শান্তির জন্য আপনাদের যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে। এছাড়া, যারা লিবিয়াতে আছেন, তারা যেন ভবিষ্যতে সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কাজ করেন।”

এছাড়া, বাংলাদেশি অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে আসার জন্য বাংলাদেশ সরকারের আরও একটি বড় পদক্ষেপ ছিল লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি লক্ষ্য রেখে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত ও সহজে ভ্রমণ ও প্রত্যাবাসন ব্যবস্থাপনা করা।

লিবিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের অবস্থান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দেশে ফিরে আসা এসব নাগরিকরা অনেক সময় নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে রেখে মানবপাচারের শিকার হন। ফলে, অভিবাসন ব্যবস্থা আরও কঠোর করা এবং বিভিন্ন দেশেও বাংলাদেশি শ্রমিকদের সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের উদ্দেশ্য হল, দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ অভিবাসনের ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার আরো বলেন, “আপনারা দেশে ফিরে এসে মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করবেন, পাশাপাশি দেশে ফিরে নতুন জীবন শুরু করতে সঠিক পথে পরিচালিত হবেন।”

বিশ্বব্যাপী মানবপাচারের সমস্যা বৃদ্ধি পাওয়ায়, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে বিশেষ নজর দিচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমবাজারের জন্য অভিবাসন ব্যবস্থা আরো সুরক্ষিত করতে সরকারের নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সচেতনতা সৃষ্টি এবং অভিবাসীদের জন্য আইনগত সুরক্ষা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

লিবিয়া থেকে ফেরত আসা ৩১০ বাংলাদেশি, যারা ফেরার পথে বা লিবিয়ায় থাকার সময় মানবপাচারের শিকার হতে পারেন, তাদের ফিরে আসার পর সচেতনতার মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের রক্ষা করা।

বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে, শুধুমাত্র লিবিয়া থেকেই নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকেও একইভাবে নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

লিবিয়া থেকে ফিরতি যাত্রার পর, এসব নাগরিকদের প্রতি পরিবারের পাশে থাকার জন্য রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশারের অনুরোধ, দেশের অভ্যন্তরে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করার একটি সুস্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com