সর্বশেষ :

রাশিয়া তৈরি করছে শব্দের চেয়ে দ্রুত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৭৬ বার
রাশিয়া তৈরি করছে শব্দের চেয়ে দ্রুত পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মস্কো, ৪ নভেম্বর — রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার ক্রেমলিনে এক রাষ্ট্রীয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছেন যে দেশটি নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক চালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেছেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতি শব্দের গতির চেয়ে তিন গুণ বেশি হবে এবং ভবিষ্যতে হাইপারসনিক গতিতেও পৌঁছানো সম্ভব হবে। এই ঘোষণা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যের ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।

পুতিন অনুষ্ঠানে ‘বুরেভেসনিক’ নামের পারমাণবিক চালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং পানির নিচে ব্যবহারের জন্য ‘পোসেইডন’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রদান করেন। তিনি বলেন, বুরেভেসনিক ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার জন্য ঐতিহাসিক অর্জন, যা দেশের নিরাপত্তা এবং কৌশলগত ভারসাম্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পোসেইডন প্রকল্পের প্রযুক্তি বুরেভেসনিকের সঙ্গে মিলিত হয়ে দেশীয় প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবন এবং বেসামরিক খাতেও প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে।

পুতিন আরও জানান, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ভিত্তি হবে বুরেভেসনিক ও পোসেইডনের মতো শক্তি-একক, যা তাদেরকে দ্রুত ও দীর্ঘ দূরত্বে আক্রমণে সক্ষম করবে। রুশ সামরিক কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুরেভেসনিকের সাম্প্রতিক পরীক্ষায় এটি দীর্ঘ সময় ধরে এবং বিস্তীর্ণ দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে, যা নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তির জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ২১ অক্টোবর বুরেভেসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার সময় ন্যাটো একটি যুদ্ধজাহাজ কাছাকাছি অবস্থান করলেও মস্কো তাদের কার্যক্রমে কোনো বাধা দেয়নি। তিনি বলেন, রাশিয়া কোনো দেশের জন্য হুমকি নয়, বরং অন্যান্য পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মতো নিজস্ব সক্ষমতা আধুনিক করছে।

বিশ্বব্যাপী এই ঘোষণা নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উচ্চগতির পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অস্ত্রনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। কারণ এ ধরনের প্রযুক্তি দ্রুত লক্ষ্য নির্ধারণ ও প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে জটিল করে তোলে।

পুতিন বলেন, এই বছর সারমাত আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক সিস্টেম যুদ্ধ-পরীক্ষায় ব্যবহার করা হবে এবং আগামী বছর এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ-পরিস্থিতিতে মোতায়েন করা হবে। নতুন প্রজন্মের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে এর সংমিশ্রণ রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং প্রতিপক্ষকে প্রতিকৌশল গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রযুক্তি-উন্নয়ন কেবল সামরিক দিকেই প্রভাব ফেলবে না, সামাজিক ও কূটনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতেও তা গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটি নিরাপত্তা এবং কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়টি পুনঃমূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দিচ্ছে।

সংক্ষেপে, রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প কৌশলগত প্রতিযোগিতা, সামরিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বুরেভেসনিক ও পোসেইডন প্রকল্পের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যদি পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়, তবে সামরিক ভারসাম্য ও বিশ্বরাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে। “একটি বাংলাদেশ অনলাইন” এই সংবাদটি পাঠকদের জন্য নিরপেক্ষ ও বিশদভাবে উপস্থাপন করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com