প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে দুটি কনটেইনারে আনা ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি নিষিদ্ধ পপি বীজ জব্দ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। এই পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ছয় কোটি ৫০ লাখ টাকা। কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চালানটি ৯ অক্টোবর বন্দরে আসার পর ছাবের আহমেদ টিম্বার কোম্পানি লিমিটেডের অফডকে নেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোরবানিগঞ্জের মেসার্স আদিব ট্রেডিং-এর নামে আসা চালানটি আটক করে। কাস্টমসের ডেপুটি কমিশনার এইচএম কবির নিশ্চিত করেছেন, চালানটিতে ঘোষিত মূল্য ছিল ৩০ লাখ ২ হাজার ৪৮২ টাকা। তবে কায়িক পরীক্ষার পর দেখা যায়, পণ্যের বাজারমূল্য ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
চালানটি খালাসের জন্য সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এমএইচ ট্রেডিং ১৪ অক্টোবর কাস্টম হাউসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। তবে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়ায় খালাস স্থগিত করা হয়। পরে ২২ অক্টোবর কায়িক পরীক্ষায় কনটেইনার দুটি থেকে ৭ হাজার ২০০ কেজি বার্ড ফুড এবং ২৪ হাজার ৯৬০ কেজি পপি সিড উদ্ধার করা হয়। কনটেইনারের মুখে বার্ড ফুড সাজানো থাকলেও ভিতরে পপি সিড লুকানো ছিল।
উদ্ধারকৃত পপির নমুনা উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যানোপ্রযুক্তি সেন্টার ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় তা পপি সিড হিসেবে শনাক্ত হয়। পপি সিডকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুসারে ‘ক’ শ্রেণির মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়া, আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ অনুযায়ী এটি আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকায় রয়েছে।
পপি সিড সাধারণত হেরোইন তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, বাংলাদেশে এই পণ্যের আমদানি ও বিপণন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, উদ্ধৃত পপির কারণে দেশের নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক এবং স্থানীয় তথ্যের মাধ্যমে তারা নিয়মিত বন্দরে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের অবৈধ আমদানি প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এমনকি নিষিদ্ধ পণ্যের বাজারমূল্য ও বাজারে প্রভাব বিবেচনা করে ভবিষ্যতে আরও কড়াকড়ি নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পপি বীজের মতো কাঁচামাল দেশের মধ্যে প্রবেশ করলে তা মাদকব্যবসার জন্য ব্যবহার হতে পারে। তাই কাস্টমস ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ দেশের নিরাপত্তা ও আইনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চট্টগ্রাম বন্দরে এই ধরনের অভিযান দেশের বন্দরে নজরদারি বাড়ানো ও অবৈধ পণ্য আমদানির প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন অভিযান দেশের মাদকবিরোধী ও অবৈধ পণ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অবৈধ ও নিষিদ্ধ পণ্যের আমদানি প্রতিরোধে তারা তৎপর থাকবেন এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।