প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের দাম আবারও বাড়ার পথে রয়েছে। ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন সম্প্রতি সুপারিশ করেছে যে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম ৯ টাকা ২৭ পয়সা বৃদ্ধি পেতে পারে। কমিশনের এই প্রস্তাবনা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এসেছে।
ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন জানায়, নভেম্বরের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মেট্রিক টন সয়াবিন তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬২ ডলার এবং পাম তেলের দাম ১ হাজার ৩৭ ডলার। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায়, বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৮৯ টাকা থেকে ১৯৮ টাকা ২৭ পয়সা পর্যন্ত নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৮ টাকা ৮৫ পয়সা বৃদ্ধি করে ১৭৭ টাকা ৮৫ পয়সা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
গত ৩ আগস্ট থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম ১৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৪ শতাংশ বেড়েছে। দেশের বাজারে সাধারণ ভোক্তারা ইতিমধ্যেই এই বৃদ্ধি অনুভব করছেন এবং নতুন প্রস্তাবিত মূল্য আরও চাপ সৃষ্টি করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামা স্থানীয় বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও রান্নাঘরের ভোজ্যতেল সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক পরামর্শকরা বলছেন, ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মুল্যও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সরকারি সূত্র জানায়, কমিশনের সুপারিশ মঞ্জুর হলে আগামী সপ্তাহ থেকে নতুন দাম কার্যকর হতে পারে। ভোক্তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য সরবরাহ এবং বাজার পর্যবেক্ষণ আরও জোরদার করা হবে। এ ধরনের দাম বৃদ্ধির প্রভাব কমানোর জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ নির্দিষ্ট ত্রাণমূলক ব্যবস্থার পরিকল্পনা করছে।
তবে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এক বছরে ১৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন সুপারিশিত দাম বৃদ্ধি তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চাপ সৃষ্টি করবে। বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও ডলারের হারের ওঠানামা বিবেচনায় ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত নীতি প্রয়োজন, যাতে ভোজ্যতেলের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
সাম্প্রতিক সময়ের এই সুপারিশ দেশের খাদ্য ও খাদ্যদ্রব্য বাজারে নতুন সংযম ও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি কেবল ক্রেতা নয়, বরং পাইকারী ব্যবসায়ী ও পরিবেশককেও প্রভাবিত করবে। দেশের কৃষি খাত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও গ্রোসারি ব্যবসায়ীদের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও বাজার পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ক্রমাগত নজর রাখছে। তবে প্রস্তাবিত এই দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ের উপর সরাসরি প্রভাব পড়বে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এ অবস্থায় ভোক্তাদের সচেতন থাকা এবং বাজারে অযথা মূল্যবৃদ্ধি রোধে সরকারি তদারকি জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, কমিশন সুপারিশ করেছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য এবং ডলারের বিনিময় হার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নতুন সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে, বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম প্রায় ১৯৯ টাকা হবে এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৮ টাকার বেশি হবে। এই পরিবর্তনের ফলে ভোজ্যতেলের সরবরাহ শৃঙ্খল এবং ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার উপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।