যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ১৪টি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্যযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়ালেও দর-কষাকষির পথ খোলা রেখেছেন। সোমবার তিনি জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ কয়েকটি দেশের পণ্যে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসতে পারে। তবে চূড়ান্ত সময়সীমা নিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ১ আগস্ট পর্যন্ত শুল্ক কার্যকরের লক্ষ্য থাকলেও তা শতভাগ কঠোর নয়, দর-কষাকষির সুযোগ থাকছে।
ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিকমাধ্যমে প্রকাশিত চিঠিতে দেখা গেছে, বাংলাদেশের পণ্যে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, বাণিজ্য সম্পর্ক ‘সমতার বাইরে’ থাকায় ২৫ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। কোনো দেশ পাল্টা ব্যবস্থা নিলে আরও কড়া শুল্কের হুমকিও দেন ট্রাম্প।
মূলত চলতি বছরের এপ্রিলের ঘোষণা অনুযায়ী অতিরিক্ত শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল, যা কাল বুধবার থেকে কার্যকরের কথা ছিল। তবে নতুন নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প সময়সীমা ১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, কেউ যদি বিকল্প প্রস্তাব দেয় এবং সেটা পছন্দ হয়, তবে সেটাও বিবেচনা করা হবে। এর মধ্যেই এশিয়ার কয়েকটি দেশ আপসের পথে না যাওয়ার বার্তা দিয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় সহজে ছাড় দেবেন না।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, টোকিও ও সিউলকে লক্ষ্য করে কড়া বার্তা দিয়ে বাকি দেশগুলোকে সতর্ক করতেই এমন পদক্ষেপ নিয়েছে হোয়াইট হাউস।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন কিছু বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা আসতে পারে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে। তবে বর্ধিত শুল্কের হুমকিতে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাজারে অনিশ্চয়তা আবারও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।