শেখ হাসিনার ফোন কল ফাঁসের পর নতুন করে বিতর্ক, তদন্তে জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ পুলিশ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৩০ বার
শেখ হাসিনার ফোন কল ফাঁসের পর নতুন করে বিতর্ক, তদন্তে জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ পুলিশ

প্রকাশ: ৯ই জুন ২০২৫ | একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বিবিসির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য নতুন করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমটি জানিয়েছে, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নজরদারি সংস্থা এনটিএমসি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোন কল রেকর্ড করেছিল, যা ১৮ জুলাই রাজধানীর গণভবন থেকে করা হয়েছিল বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র তাদের নিশ্চিত করেছে। এই কলের বিশ্লেষণ এবং এর সাথে সম্পর্কিত ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ নথি এবং আন্তর্জাতিক ফরেনসিক প্রতিষ্ঠানের মতামত মিলিয়ে পুরো বিষয়টি এখন আরও স্পষ্ট ও বিতর্কিত রূপ পেয়েছে।

গত বছর দেশব্যাপী চলমান বিক্ষোভে সহিংসতায় প্রাণ হারান প্রায় ১,৪০০ মানুষ, যা জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সেই ঘটনার ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়েছে, যেখানে তিনি অনুপস্থিত অবস্থায় অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত আছেন। এদিকে তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং তার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ শুরু থেকেই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দলটির একজন মুখপাত্র বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলেছেন, বিতর্কিত সেই ফোন কলটি থেকে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ মেলে না এবং এটি শুধুই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

অন্যদিকে, ফরেনসিক প্রতিষ্ঠান ইয়ারশট ও বিবিসির যৌথ প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া কলটিতে কোনো ধরনের কৃত্রিমতা বা এডিটিংয়ের প্রমাণ মেলেনি। বাংলাদেশের পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এর সঙ্গেও একমত প্রকাশ করে জানায়, এটি সম্পূর্ণ অখণ্ড এবং শেখ হাসিনার কণ্ঠস্বরের সাথেই পুরোপুরি মিলে গেছে।

বিতর্কিত এই কলের পরই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশি গোপন নথিতে উল্লেখ আছে, ১৮ জুলাইয়ের সেই ফোন কলে দেওয়া নির্দেশনার পর রাজধানীর রাস্তায় সামরিক মানের অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান অন্তত ৫২ জন, যদিও শুরুতে নিহতের সংখ্যা ছিল ৩০ জনের মতো। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোনের ছবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিও বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছেন, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সেনাবাহিনী পিছু হটার পরপরই পুলিশ সরাসরি গুলি চালায়। পাল্টা হামলায় যাত্রাবাড়ী থানায় ছয়জন পুলিশ সদস্যও প্রাণ হারান।

বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সহিংসতায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে ৬০ জন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, কোনো পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে মামলাটি চলছে, সেখানে তাকে গণহত্যা, সহিংসতা উসকে দেওয়া, রাষ্ট্রদ্রোহী ষড়যন্ত্র এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রতিবেশী ভারত সরকার এখনো তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। জাতিসংঘের তদন্ত দল বলছে, তাদের কাছে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের বিশ্বাসযোগ্য ও যুক্তিসংগত প্রমাণ রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ তা পুরোপুরি অস্বীকার করে বলছে, সব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর কৌশলেরই অংশ।

এদিকে বিবিসি এই ইস্যুতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মন্তব্য চাইলে কোনো সাড়া মেলেনি। এমন প্রেক্ষাপটে দেশে এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। সামনে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উত্তেজনা ক্রমেই বেড়ে চলছে। আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে আদৌ অংশ নিতে পারবে কি না, সেই প্রশ্নই এখন দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হয়ে দেখা দিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত