নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, আমু ও দীপু মনিসহ ৯ সাবেক প্রভাবশালী

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৯ বার
নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, আমু ও দীপু মনিসহ ৯ সাবেক প্রভাবশালী

প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিচারিক জবাবদিহির ঢেউয়ের মধ্যেই এবার নতুন করে আইনের জালে পড়েছেন শেখ হাসিনার সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাবেক মন্ত্রী ও আমলারা। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া এক আদেশে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ভিত্তিতে ৯ জন সাবেক উচ্চপর্যায়ের সরকারি ব্যক্তিকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি দেন।

এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন সাবেক আইজিপি শহীদুল হক, সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আনিসুল হক, জাহাঙ্গীর আলম, পলক, শহীদুল হক ও আবুল হাসানকে দুইটি করে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সালমান এফ রহমান, আমির হোসেন আমু ও ডা. দীপু মনিকে একটি করে মামলায় এবং সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনুকে আটটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই মামলাগুলোর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হত্যা, হত্যা প্রচেষ্টা এবং রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ।

আইনি প্রক্রিয়ায় এই গ্রেপ্তার প্রদর্শনকে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলছেন আইন বিশ্লেষকরা। তারা মনে করছেন, এটি মূলত নতুন সরকার গঠনের পর গণবিচারের আওতায় দুর্নীতি, রাজনৈতিক সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের অংশ হিসেবে এগিয়ে চলা একটি ধাপ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর আগে এদের অধিকাংশকে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া মামলা অনুযায়ী গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এখন নতুন করে যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর তাদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে, যাতে আগের মামলা ও নতুন তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে আরও গভীর তদন্ত চালানো সম্ভব হয়।

যদিও সরকারিভাবে এ গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ’ বলে দাবি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলের একাধিক সিনিয়র নেতা ইতিপূর্বে অভিযোগ করেছেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থা অতীতের প্রতিশোধ নিতেই রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করছে। তবে সরকারপন্থী পক্ষগুলোর দাবি, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, এবং যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।

এই মুহূর্তে দেশের রাজনীতিতে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে ক্ষমতাসীন সাবেক সরকারের শীর্ষ নেতাদের আইনি জটিলতা ও চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও বাংলাদেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ প্রেক্ষাপটে এসব উচ্চপর্যায়ের গ্রেপ্তার ও তদন্তকে দেশের আইনব্যবস্থার স্বাধীনতার প্রমাণ হিসেবে দেখতে চাইছে অনেকে, আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবেও ব্যাখ্যা করছেন।

যাত্রাবাড়ী থানার সংশ্লিষ্ট মামলা ও তদন্ত নিয়ে এখনও বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ হয়নি। তবে সূত্র বলছে, এই মামলাগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই ২০২৩ সালের শেষার্ধে সংঘটিত সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির সময় ঘটে যাওয়া হত্যা, আগুন সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে।

আইনি প্রক্রিয়ায় এসব মামলার অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যৎ বিচারিক ভাগ্য কেমন হবে, তা নিয়ে এখন আগ্রহী হয়ে উঠেছে গোটা রাজনৈতিক অঙ্গন। তবে যা-ই হোক, বাংলাদেশের বিচার ও রাজনীতির ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হতে যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত