নেতানিয়াহুর ক্ষমা, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট তিন জটিলতায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৬ বার
ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্‌জগ

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আদালতে চলমান দুর্নীতি মামলার জন্য ক্ষমা প্রার্থনার পর দেশজুড়ে নতুন রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে। নেতানিয়াহু সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্‌জগের কাছে ক্ষমা চান। তবে ইসরায়েলি আইনে দোষ স্বীকার ছাড়া ক্ষমা দেওয়া যায় না, যা এই আবেদনের অনুমোদনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

দেশটি কার্যত নির্বাচনী বছরে প্রবেশ করেছে। আগামী অক্টোবরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও যদি প্রয়োজন মনে হয়, আগাম নির্বাচনও ডাকা যেতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর ক্ষমা প্রার্থনা রাজনৈতিকভাবে হিসাব করা পদক্ষেপ। ইসরায়েল হায়োমের বিশিষ্ট বিশ্লেষক বিনি আশকেনাজি বলেন, এটি জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হারেদিমের খসড়া-ছাড় আইন থেকে সরিয়ে ক্ষমার বিষয়ে নিয়ে আসতে পারে, যা রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুর জন্য সুবিধাজনক।

ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্‌জগের সামনে তিনটি জটিল পথ রয়েছে। প্রথম সম্ভাবনা হলো ক্ষমা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সবচেয়ে দ্রুত সমাধান হতে পারে। তবে এতে বিরোধী দলগুলো সন্তুষ্ট হলেও নেতানিয়াহুর লিকুদ জোট ও মিত্র দলের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হবে।

দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো ক্ষমা অনুমোদন করা। অনুমোদিত হলে নেতানিয়াহুর দল এবং মিত্ররা খুশি হবে, কিন্তু বিরোধীরা ক্ষোভ প্রকাশ করবেন। বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই হার্‌জগকে চিঠি পাঠিয়ে ক্ষমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন, যা বিরোধীদের মধ্যে আরও উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ২০২৩ সালের বিচার বিভাগীয় সংস্কারবিরোধী আন্দোলনের চেয়েও বড় বিক্ষোভের উদ্রেক করতে পারে।

তৃতীয় সম্ভাবনা হলো শর্তসাপেক্ষ ক্ষমা। ইসরায়েল হায়োমের বিশ্লেষক এলিয়ানর কফম্যান বলেন, প্রেসিডেন্ট হার্‌জগ শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা মঞ্জুর করতে পারেন। শর্তের মধ্যে থাকতে পারে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জীবন থেকে অস্থায়ীভাবে সরে দাঁড়ানো, বিতর্কিত বিচার ও গণমাধ্যম সংস্কার বিল স্থগিত করা বা সরকারের ৭ অক্টোবর হামলার ওপর চলমান তদন্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। তবে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তিনি রাজনৈতিক জীবন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন না।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তিনটি প্রধান দুর্নীতি মামলা রয়েছে। কেস ১০০০-তে অভিযোগ যে তিনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিলাসদ্রব্য গ্রহণের বিনিময়ে সুবিধা প্রদান করেছেন। কেস ২০০০-এ ইয়েদিওথ আহরোনথ পত্রিকার প্রকাশকের সঙ্গে কথিত সমঝোতার মাধ্যমে সুবিধাজনক কভারেজ পাওয়ার অভিযোগ। কেস ৪০০০-এ অভিযোগ রয়েছে ওয়ালা নিউজ ও বেজেক মালিক শাউল এলোভিচকে নিয়ন্ত্রক সুবিধা দিয়ে ইতিবাচক কভারেজ আদায়ের।

এর পাশাপাশি ২০২৪ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াভ গালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। অভিযোগ, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় হামলার সময় ৭০,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এই ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি ইসরায়েলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট হার্‌জগ যেই পথই বেছে নেন না কেন, তা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দিককে অগ্রাহ্য করতে পারবে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত এবং বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতার জন্য অত্যন্ত প্রভাবশালী হতে পারে।

নেতানিয়াহু-সমর্থিত সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪ দাবি করেছে, হার্‌জগ হয়তো দোষ স্বীকার ছাড়াই ক্ষমা দিতে রাজি হতে পারেন, তবে আবেদনপত্রের ভাষায় কিছু পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে কয়েক সপ্তাহ বা দুই মাসও লাগতে পারে।

নেতানিয়াহুর ক্ষমা প্রার্থনা এবং প্রেসিডেন্ট হার্‌জগের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক নজর কাড়ছে। দেশের ভবিষ্যত নির্বাচনী প্রক্রিয়া, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের মুক্তি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com