২০২৬ সালের ঈদে শাকিব খানের ‘লাক্সার স্কেলের’ চমক: নতুন গল্প, নতুন নির্মাতা, নতুন প্রযোজনা সংস্থা

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫
  • ২৫ বার
২০২৬ সালের ঈদে শাকিব খানের ‘লাক্সার স্কেলের’ চমক: নতুন গল্প, নতুন নির্মাতা, নতুন প্রযোজনা সংস্থা

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । ডেস্ক একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশের সিনেমাপ্রেমীদের জন্য আশার আলো হয়ে আবারও হাজির হচ্ছেন ঢালিউডের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সুপারস্টার শাকিব খান। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে একের পর এক হিট ছবি উপহার দেওয়া এই তারকা এবার ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরে হাজির হচ্ছেন নতুন এক গল্পের মাধ্যমে। তবে এবার শুধু তারকার ঝলক নয়, রয়েছে একাধিক নতুন সংযোজন—প্রথমবারের মতো সিনেমা প্রযোজনায় নাম লেখানো শিরিন সুলতানা, তরুণ নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদের নির্দেশনা এবং মেজবাহ উদ্দিন সুমনের লেখা মৌলিক গল্প ও চিত্রনাট্য। নতুন ঘরানা, নতুন পরিকল্পনা এবং বৃহৎ স্কেল—সব মিলিয়ে এটি হতে চলেছে শাকিব ভক্তদের জন্য একটি বিশেষ উপহার।

চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করছে নবাগত প্রতিষ্ঠান ‘ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড’। এর কর্ণধার শিরিন সুলতানা সিনেমা নির্মাণে আসার অভিজ্ঞতা ও শাকিব খানকে ঘিরে তার আবেগ প্রকাশ করে বলেন, “এই প্রথম সিনেমা প্রযোজনা করছি এবং আমার প্রথম সিনেমার নায়ক হচ্ছেন শাকিব খান—এটা আমার জন্য বিশাল এক সম্মান। উনাকে বেছে নেওয়ার পেছনে কোনো কৌশল নয়, বরং বিশ্বাস—শাকিব খান মানেই হিট। উনার কাজের প্রতি একাগ্রতা ও অনুশীলনের ফলেই আজ তিনি দেশের সবচেয়ে বড় তারকা।”

শিরিন সুলতানা আরও বলেন, “আমাদের ছবির গল্পের চরিত্রের সঙ্গে শাকিব খান পুরোপুরি মানিয়ে গেছেন। আমরা যখন চরিত্রটির কথা চিন্তা করেছি, তখন থেকেই মনে হয়েছে এই চরিত্রের জন্য শাকিব খান ছাড়া আর কেউ উপযুক্ত নন। সবার মতোই আমরাও তার সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি এবং সে স্বপ্নটা এবার বাস্তব হতে চলেছে।”

পরিচালনায় আছেন তরুণ নির্মাতা আবু হায়াত মাহমুদ, যিনি এই ছবির মধ্য দিয়েই বড় পরিসরে তার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন। নির্মাতা জানান, এই কাজের সুযোগ পাওয়া তার জন্য বিশাল প্রাপ্তি এবং দায়িত্বের ব্যাপার। “শাকিব খানকে নিয়ে সিনেমা করা প্রতিটি পরিচালকের স্বপ্ন। আমি সত্যিই নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করছি যে আমার প্রথম ছবিতে তিনি থাকছেন। তার মতো বড় একজন শিল্পীকে নিয়ে কাজ করাটা যেমন গর্বের, তেমনি বিশাল এক চ্যালেঞ্জও বটে। আমি চেষ্টা করবো আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজটি সফলভাবে শেষ করতে,” বলেন আবু হায়াত।

ছবির নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়েও রয়েছে ব্যতিক্রমী ভাবনা। পরিচালক জানান, এটি একটি “লাক্সার স্কেলে” নির্মিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশে যেখানে এখনো অনেক টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেসব বিবেচনায় নিয়েই ছবির একটি বড় অংশ দেশের বাইরে সেট নির্মাণ করে চিত্রায়নের পরিকল্পনা চলছে। “আমরা চাই, দর্শক একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা পাক। শুধুমাত্র গল্পে নয়, নির্মাণের ভিজ্যুয়াল মানেও আমরা আন্তর্জাতিক মান স্পর্শ করতে চাই,” বলেন নির্মাতা।

এই ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব খান ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই ধারণা করছেন, এটি হতে পারে শাকিব খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম মাইলফলক ছবি। অন্যদিকে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরাও এই নতুন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সাহসী উদ্যোগ এবং পরিচালকের সৃজনশীলতা নিয়ে বেশ আশাবাদী।

ঢালিউডে ঈদ মানেই শাকিব খানের সিনেমা—এই ধারা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। তবে এইবার গল্প, নির্মাণ ও প্রযোজনার দিক থেকে কিছুটা ব্যতিক্রম এবং উচ্চাভিলাষী প্রয়াস হিসেবে দেখছেন অনেকে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২৬ সালের ঈদুল ফিতরে বড় পর্দায় এক নতুন চমক নিয়েই হাজির হবেন শাকিব খান, যেটি হতে পারে বাংলা সিনেমার নতুন যুগের আরেকটি সূচনাবিন্দু।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত