প্রকাশ: ১১ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
একটি কন্যাশিশু তার জীবনের এক মহান অর্জনের মুহূর্তে মায়ের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছে সেই অনন্য অনুভূতির কথা—এ দৃশ্য কতটা হৃদয়গ্রাহী হতে পারে, তা যেন নতুনভাবে জানালো তুরস্কের এক ছোট্ট হাফেজার ভিডিও। পবিত্র কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করে মাকে যখন সে ফোনে জানায় সেই খুশির কথা, তখনকার কথোপকথন ছুঁয়ে গেছে লাখো মানুষের মন। ভিডিওটি এখন ভাইরাল আরববিশ্বসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।
তুরস্কের কোকায়েলি প্রদেশের একটি মাদরাসার ছাত্রী হিসেবে কোরআনের হিফজ সম্পন্ন করা মেয়েটি, কেবল কোরআন মুখস্থই করেনি—সে সেই সঙ্গে ভালোবাসার শক্তিও ছড়িয়ে দিয়েছে তার পরিবারের প্রতি। আর এই ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তার মাকে ফোন করা এক অসাধারণ মুহূর্তে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও ইয়েনি শাফাক জানায়, হিফজ শেষ করে মেয়েটি অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে মাকে ফোন দেয়। “আসসালামু আলাইকুম, হে আম্মু”—এই একটি বাক্য দিয়েই শুরু হয় তাদের সংলাপ। উত্তরে মা বলেন, “ওয়ালাইকুম আসসালাম, আমার জান।” এরপর মেয়েটি জানায়, “আমি তোমাকে একটি সুসংবাদ দিতে চাই।” মা বলেন, “অবশ্যই, আমার জান।” তখন মেয়েটি বলে, “আজ আমি আমার শেষ সবক প্রদান করেছি এবং এখন আমি একজন হাফেজা। আলহামদুলিল্লাহ।”
মেয়ের মুখে এই খবরে আবেগে কাঁপতে কাঁপতে মা বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ। আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি—তিনি তোমাকে কোরআনের আলোয় পথ চলার তাওফিক দিন এবং এই পবিত্র পথ থেকে কখনো যেন বিচ্যুত না হও।”
মেয়েটির চোখে-মুখে তখন ছিল অনাবিল আনন্দ আর শান্তি। সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলে, “তোমাদের প্রতি শুকরিয়া, কারণ তোমরা সর্বদা আমাকে সাপোর্ট করেছো। আর আল্লাহর প্রতিও অসংখ্য শুকরিয়া।”
ভিডিওটিতে মেয়ের ভক্তিপূর্ণ চেহারার উজ্জ্বলতা, মায়ের দোয়ার প্রতিধ্বনি এবং দুজনের মধ্যকার ভালোবাসার সম্পর্ক এতটা স্বচ্ছ ও নিখাদ ছিল যে, তা নিছক একটি পারিবারিক কল ছিল না—এ ছিল এক আত্মিক ও আধ্যাত্মিক সংলাপ, যা কোটি হৃদয়ে প্রভাব ফেলেছে।
মা তখন মেয়ের জন্য আরও দোয়া করেন: “আল্লাহ যেন তোমাকে আজীবন কোরআনের হিফজ ধরে রাখার শক্তি দেন। তিনি যেন তোমার শিক্ষকদের ওপরও সন্তুষ্ট থাকেন। আমীন।”
এই ভিডিও প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। মুসলিম বিশ্বে এমন একটি সাফল্য আর পবিত্র সম্পর্কের উদাহরণ এই যুগে কতটা দুর্লভ হয়ে উঠেছে, তাও যেন স্মরণ করিয়ে দিলো ভিডিওটি।
অনেকেই বলছেন, এই ভিডিও শুধু একটি হিফজ সম্পন্ন হওয়ার ঘোষণা নয়—এটি হচ্ছে কোরআনের প্রতি ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধনের মহত্ত্ব এবং এক নারীর জীবনে ধর্মীয় অর্জনের গৌরবময় ঘোষণা।
এই ঘটনাটি শুধু তুরস্ক বা মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বরং সারা বিশ্বের মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য এক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে—যেখানে কন্যা সন্তানের কণ্ঠে কোরআনের জয়গান শুনে মায়ের হৃদয়ে উঠে আসে প্রশান্তির কান্না। এই মুহূর্ত যেন কোটি মা-বাবার জন্য এক আশার আলো—যারা স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের সন্তানরাও একদিন হাফেজ বা হাফেজা হয়ে উঠবে।
এভাবেই ধর্ম, ভালোবাসা ও পারিবারিক মূল্যবোধ একত্রে মিশে তৈরি করেছে এক অপার মানবিক মুহূর্ত, যা যুগ যুগ ধরে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে নিঃসন্দেহে।