ঋণখেলাপি তালিকা থেকে মান্নার নাম সরানোর নির্দেশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮২ বার
ঋণখেলাপি তালিকা থেকে মান্নার নাম সরানোর নির্দেশ

প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সোমবার বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এর ফলে মান্না বগুড়া থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো বাধার মুখে পড়বেন না।

এর আগে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বগুড়া বড়গোলা শাখা থেকে খেলাপি ঋণের ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ের জন্য ১০ ডিসেম্বর একটি ‘কলব্যাক নোটিশ’ পাঠানো হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে মাহমুদুর রহমান মান্না এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে এবিএম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়।

আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডে অংশীদারিত্বের কাঠামো অনুযায়ী মাহমুদুর রহমান মান্নার মালিকানা ৫০ শতাংশ, এবিএম নাজমুল কাদির শাজাহানের ২৫ শতাংশ এবং তার স্ত্রী ইসমত আরা লাইজুর ২৫ শতাংশ। নোটিশে বলা হয়, ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বকেয়া ঋণ নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ ও নানা জটিলতার প্রেক্ষিতে মাহমুদুর রহমান মান্না হাইকোর্টে রিট করেন নিজের নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য। তবে হাইকোর্ট গত বুধবার তার রিট আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপরই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে তিনি আবেদন করেন এবং আদালত শুনানি শেষে সোমবার তাঁর অনুকূলে সিদ্ধান্ত দেন।

আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আপিল বিভাগের এই নির্দেশনা মানে হচ্ছে মাহমুদুর রহমান মান্নার বিরুদ্ধে বর্তমান সময়ের কোনো কার্যকরী আর্থিক বা আইনি বাধা নেই। এখন তিনি আইনগতভাবে বগুড়া থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এই রায় রাজনৈতিক মহলে এবং স্থানীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।

মাহমুদুর রহমান মান্নার আইনজীবীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে এক গুরুত্বপূর্ণ জটিলতা সমাধানের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, “নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মান্নার নাম ঋণখেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের জন্য এখন আইনগত কোনো বাধা রইল না। এটি নির্বাচনী পরিবেশে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়।”

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই রায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় মান্নার অংশগ্রহণকে সুনিশ্চিত করবে এবং বগুড়া অঞ্চলে তার সমর্থক ও রাজনৈতিক দলের জন্য তা এক ধরনের উৎসাহের সিগন্যাল। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা মান্না এই সিদ্ধান্তকে নতুন নির্বাচনী চ্যালেঞ্জে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে ইসলামি ব্যাংকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, খেলাপি ঋণ ও কর্পোরেট দায়বদ্ধতার বিষয়টি ব্যাংক আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়াধীন ছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এখন পরিস্থিতি নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

রাজনৈতিক মহল, আইন বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় মানুষজন এই সিদ্ধান্তকে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। অনেকেই মনে করছেন, মান্নার অংশগ্রহণে বগুড়া কেন্দ্রে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও গতিশীল ও সংবেদনশীল হবে।

আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতের এই রায় রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি মান্নার ঋণ পরিস্থিতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে না। তবে নির্বাচনী অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতে তা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

এবারের রায়ের ফলে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বসন্ধ্যায় বগুড়া অঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন ধরনের উত্তেজনা ও আগ্রহ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com