চাটমোহরে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬০ বার
চাটমোহরে পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাবনার চাটমোহরে মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে আবারও সাফল্য পেয়েছে পুলিশ। পৃথক দুটি অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে চাটমোহর থানা পুলিশ। স্থানীয়ভাবে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশের এই অভিযানকে স্বস্তির নিঃশ্বাস হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। তবে একই সঙ্গে তারা বলছেন, মাদক নির্মূলে নিয়মিত ও ধারাবাহিক অভিযান আরও জোরদার করা জরুরি।

চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সারওয়ার হোসেন জানান, রোববার সন্ধ্যা ও রাত ৯টার দিকে পৃথক সময়ে পরিচালিত অভিযানে এই দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। পুলিশের কাছে আগেই মাদক বিক্রির গোপন তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালানো হয় বলে জানান তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রথম অভিযানে চাটমোহর উপজেলার গুনাইগাছা পূর্বপাড়া গ্রামের মোবারক প্রামাণিকের ছেলে জাকিরুল ইসলাম (৩২) কে আটক করা হয়। রোববার সন্ধ্যার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় জাকিরুল ইসলামের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে তাকে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার কাছে থাকা ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

একই রাতে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে চাটমোহর থানার অপর একটি দল বিলচলন ইউনিয়নের বোথর মধ্যপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে বেলাল প্রামাণিকের ছেলে সোহেল রানা (২২) কে আটক করা হয়। তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে গোপন সূত্রে তথ্য ছিল।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে বলে থানা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই দুইজনের সঙ্গে জড়িত অন্য কোনো মাদক কারবারি বা সিন্ডিকেট আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে রিমান্ড চেয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

চাটমোহর থানার ওসি গোলাম সারওয়ার হোসেন বলেন, “মাদক নির্মূলে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। এই দুইজনের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে চাটমোহর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের অবাধ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে মাদকের প্রভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অনেক পরিবারই সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। এমন প্রেক্ষাপটে পুলিশের এই অভিযানকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

গুনাইগাছা পূর্বপাড়া গ্রামের এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এলাকায় কিছুদিন ধরে সন্ধ্যার পরপরই সন্দেহজনক লোকজনের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছিল। আমরা ধারণা করছিলাম, এখানে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। পুলিশের অভিযানে অন্তত বোঝা গেল, প্রশাসন বিষয়টি নজরে রেখেছে।”

বিলচলন ইউনিয়নের বোথর মধ্যপাড়া গ্রামের আরেক বাসিন্দা জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ শোনা গেলেও কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি। পুলিশের অভিযানের পর এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়াবা এখন গ্রামাঞ্চলেও মারাত্মক সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে দেশের ভেতরের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ইয়াবার বিস্তার ঘটছে। এর পেছনে রয়েছে সহজ লাভের আশায় তরুণদের মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়া এবং দুর্বল সামাজিক সচেতনতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও এই মাদকবিরোধী লড়াইয়ে এগিয়ে আসতে হবে বলে তারা মনে করছেন।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন-এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সম্প্রতি ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালালেও নতুন নতুন কৌশলে মাদক কারবারিরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কখনও ক্ষুদ্র পরিসরে, কখনও মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এই অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।

চাটমোহর থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি মাদক কারবার বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য দেয়, তাহলে গোপনীয়তা রক্ষা করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রশাসনের এই আহ্বানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

মাদকবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত কয়েকজন সমাজকর্মী বলেন, শুধু গ্রেপ্তার ও মামলা দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দিতে হবে। তবে একই সঙ্গে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি, যাতে অন্যরা সতর্ক হয়।

চাটমোহরে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটকের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই এখনও দীর্ঘ পথের। তবে পুলিশের তৎপরতা ও স্থানীয়দের সচেতনতা যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে এই সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলা করা সম্ভব—এমন আশাই করছেন এলাকাবাসী।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com