বাংলাদেশ গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনীতে অংশ নিতে চায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬ বার
বাংলাদেশ গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনীতে অংশ নিতে চায়

প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ।একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান সম্প্রতি নীতিগতভাবে প্রকাশ করেছেন যে দেশটি গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হতে আগ্রহী। শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। জানা গেছে, এই প্রস্তাবটি খলিলুর রহমান ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন আন্ডার-সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যালিসন হুকার এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের সময় ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকে খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের পক্ষে গাজায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক বাহিনীতে অংশগ্রহণের আগ্রহ রয়েছে। এই প্রস্তাবের জবাবে আন্ডার-সেক্রেটারি হুকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে বাংলাদেশের সঙ্গে মিলে কাজ করতে আগ্রহী।

গাজায় স্থায়ী শান্তি এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ গত বছরের নভেম্বর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার সমর্থন জানায়। এই পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অংশ ছিল গাজায় যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠন। বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের গুরুত্ব এবং মানবিক দায়িত্বের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রদর্শন করেছে।

বৈঠকের সময় খলিলুর রহমান মার্কিন কর্মকর্তাদের অবহিত করেন, বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের কার্যক্রমের বর্ণনা দেন। আন্ডার-সেক্রেটারি হুকার বৈঠকে আশ্বাস দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য দৃঢ়ভাবে সমর্থন জারি রাখবে এবং নির্বাচনকে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিস্তৃত বিষয়ে আলোচনাও হয় বৈঠকে। এর মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সমস্যা, এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থান পায়। খলিলুর রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ থেকে আমেরিকান কৃষিপণ্য আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও তিনি মার্কিন ভিসা বন্ড ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ জানান, বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি বি-১ ভিসা এবং ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব। আন্ডার-সেক্রেটারি হুকার আশ্বাস দেন যে, বিষয়টি মার্কিন সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।

রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কেও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রশংসা করেন খলিলুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। খলিলুর রহমান হুকারকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের আশ্রয়প্রাপ্ত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।

এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশি বেসরকারি খাতের উন্নয়নের প্রস্তাবও উঠে আসে। বিশেষত সেমি-কন্ডাক্টর শিল্পের উন্নয়নের জন্য ইউএস ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশনের অর্থায়নে বাংলাদেশি বেসরকারি খাতের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির প্রস্তাব খলিলুর রহমান তুলে ধরেন। আন্ডার-সেক্রেটারি হুকার এই প্রস্তাবগুলো বিবেচনার জন্য ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান।

পল কাপুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, মার্কিন ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই আলোচনায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় ও কার্যকরভাবে পরিচালনার প্রমাণ দিয়েছে। এছাড়াও খলিলুর রহমান নতুন নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতা প্রতিফলিত করে।

বাংলাদেশের এই আগ্রহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের দায়িত্বশীল ও মানবিক অবস্থানের প্রতিফলন। গাজায় আইএসএফ বাহিনীতে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবে না, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের গুরুত্ব ও নীতি নির্ভর পদক্ষেপের প্রমাণও দেবে। বিশেষত রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এক ধরনের মানবিক দায়বদ্ধতা ও কূটনৈতিক দক্ষতার প্রকাশ।

বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, দেশটি শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী অংশগ্রহণকারী হতে চায়। দেশের নিরাপত্তা ও নীতি নির্ভর দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক মঞ্চে শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য অবস্থান নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত