প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশজুড়ে সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নদীবন্দরগুলোর জন্য জারি করা হয়েছে সতর্কসংকেত, কারণ ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী দুই দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব আরও বাড়তে পারে। এর ফলে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকবে এবং দফায় দফায় ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। কিছু এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ৮৮ মিলিমিটারেরও বেশি হতে পারে, যা অতি ভারি বৃষ্টিপাত হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল, শহরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা বাড়ার কারণে দেশের আবহাওয়ায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বিকেল ও রাতের দিকে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে নদীপথে নৌযান চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে, যাতে নৌযান চলাচল ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জুন মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে ওঠা স্বাভাবিক হলেও এ বছরের প্রভাবে বৃষ্টির ঘনত্ব কিছুটা বেশি দেখা যাচ্ছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রংপুর ও সিলেট অঞ্চলে কৃষিজমির ওপরও এই বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ধান ও অন্যান্য মৌসুমি ফসলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পানি জমে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে শহরাঞ্চলে ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও তীব্র হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে অপ্রয়োজনে দীর্ঘ সময় বাইরে না থাকার পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টির সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় অবস্থান এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে এবং নদীপথে চলাচলের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার আপডেট অনুসরণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনকেও সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চলেও আংশিক মেঘলা আকাশ এবং মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উত্তরাঞ্চলের তুলনায় সেখানে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কম থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
সব মিলিয়ে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী দুই দিন দেশের বড় একটি অংশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে। তাই আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।