প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
খুলনায় অনুষ্ঠিত এক রাজনৈতিক সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য ‘আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিতে হবে। তার ভাষায়, এই বিপ্লব কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়; বরং একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই এ পরিবর্তন প্রয়োজন।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিত জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশটি আয়োজন করা হয় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘবসহ বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কাঠামো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের ভোটাধিকার ও রায়কে বারবার উপেক্ষা করা হচ্ছে, যার ফলে রাজনৈতিক আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তার মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য জনগণকে নতুনভাবে সংগঠিত হতে হবে এবং একটি নৈতিক ও জনমুখী রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের আন্দোলন ও পরিবর্তন হবে একটি নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো, যার মূল লক্ষ্য হবে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত একটি সমাজ গঠন। তরুণ প্রজন্মকে এ পরিবর্তনের মূল শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি নির্বাচন ব্যবস্থার সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, অতীতে ভোটের ফলাফল নিয়ে জনগণের ইচ্ছাকে যথাযথভাবে প্রতিফলিত করা হয়নি। তার বক্তব্যে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির প্রতিও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন, দাবি করেন যে দলটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য ধৈর্য ও সংগঠিত প্রস্তুতি প্রয়োজন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে আন্দোলনের রূপরেখা আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।
সমাবেশে তিনি সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তার মতে, সীমান্তে যেসব সমস্যা তৈরি হচ্ছে, তা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। তবে তিনি একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ আরও অনেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খুলনার এই সমাবেশ দেশের বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে নতুন ধরনের সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন মতাদর্শের দলগুলোর একই মঞ্চে উপস্থিতি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষের একটি অংশ বলছে, রাজনৈতিক দলগুলোর এমন বক্তব্য ও কর্মসূচি মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, সেটি সময়ই নির্ধারণ করবে।
সব মিলিয়ে খুলনার এই সমাবেশে দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে পরবর্তী কর্মসূচি ও দলগুলোর অবস্থানের ওপর।