দ্বিতীয় বিয়ের পর হিরণ, আইনি বিচ্ছেদ হয়নি: প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮০ বার
দ্বিতীয় বিয়ের পর হিরণ, আইনি বিচ্ছেদ হয়নি: প্রথম স্ত্রীর অভিযোগ

প্রকাশ:  ২১  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও বিতর্ক। দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন—এ খবর প্রকাশ্যে আসতেই নীরবতা ভেঙে মুখ খুলেছেন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ, আবেগ আর ক্ষোভে ভর করে তিনি দাবি করেছেন, তাঁদের মধ্যে এখনো আইনি বিচ্ছেদ হয়নি, অথচ সেই অবস্থাতেই হিরণ দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, যা তাঁর ভাষায় “আইনিভাবে বেআইনি এবং নৈতিকভাবে অত্যন্ত কুৎসিত।”

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেই বিয়ের খবর জানান হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম ঋত্বিকা গিরি, পেশায় একজন মডেল। পোস্টটি দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য তা সরিয়ে ফেলেন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে খবর ছড়িয়ে পড়ে বিনোদন অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে। দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল, অভিনেতার জীবনে নতুন সম্পর্কের আগমন ঘটেছে এবং তিনি দ্বিতীয় বিয়ের পথে হাঁটছেন। এবার সেই গুঞ্জনই বাস্তবে রূপ নিল।

এই বিয়ের খবর সামনে আসতেই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের গল্প, ভাঙনের যন্ত্রণা এবং অভিযোগের পাহাড়। অনিন্দিতা বলেন, “আমাদের আইনি বিচ্ছেদ হয়নি। আমার স্বামীর নাম হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায়। ২০০০ সালের ১১ ডিসেম্বর আমাদের বিয়ে হয়েছিল। গত বছর আমাদের বিয়ের ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। আমাদের একটি ১৯ বছরের মেয়ে আছে। অথচ আজ সবাই এমনভাবে কথা বলছে, যেন সবকিছু অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।”

তিনি আরও জানান, তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদের কোনো আইনি প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। এমন অবস্থায় হিরণের দ্বিতীয় বিয়ে আইনসম্মত নয় বলেই তাঁর দাবি। অনিন্দিতার কথায়, “আইনি বিচ্ছেদ ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা কীভাবে সম্ভব? এটা শুধু আমার সঙ্গে প্রতারণা নয়, আমার মেয়ের ভবিষ্যতের সঙ্গেও অন্যায়।”

হিরণ ও অনিন্দিতার দাম্পত্য জীবনের পেছনের গল্পও উঠে এসেছে তাঁর বক্তব্যে। একসময় অভিনেতার জীবনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পাশে ছিলেন অনিন্দিতা। পেশায় একজন ডিজাইনার, তিনি নিজের বুটিক ও ক্যাফে পরিচালনা করেন। সংসার সামলানোর পাশাপাশি হিরণের ক্যারিয়ার গড়ে ওঠার সময়ও নীরবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁদের সংসারে জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান, যে বর্তমানে ১৯ বছর বয়সী এবং মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী।

তবে সেই সুখের সংসার যে অনেক আগেই ভাঙনের পথে হেঁটেছে, তা একপ্রকার স্বীকার করেছেন অনিন্দিতা। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর এবং তাঁর মেয়ের ওপর মানসিক অত্যাচার চলছিল। “অনেকে মনে করেন, মারধর না হলে অত্যাচার হয় না। কিন্তু মানসিক অত্যাচার যে কতটা ভয়ংকর, তা যারা ভোগেন তারাই বোঝেন। আমি আর আমার মেয়ে দিনের পর দিন এই মানসিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গিয়েছি,” বলেন তিনি।

অনিন্দিতার দাবি, শুধুমাত্র মেয়ের কথা ভেবেই তিনি এতদিন সবকিছু চুপচাপ সহ্য করেছেন। পরিবারের সম্মান এবং মেয়ের মানসিক স্থিতির কথা ভেবেই তিনি মুখ খুলতে চাননি। “আমি সবসময় ভেবেছি, হিরণ সম্পর্কে কিছু বললে আমার মেয়ের গায়েও কাদা লাগবে। তাই নিজের কষ্ট চেপে গেছি,” বলেন তিনি। তবে হিরণের দ্বিতীয় বিয়ের খবর সামনে আসার পর আর নীরব থাকা সম্ভব হয়নি বলে জানান অনিন্দিতা।

সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছেন মেয়ের মানসিক অবস্থার কথা ভেবে। অনিন্দিতা বলেন, “যে মেয়েটির সঙ্গে ও (হিরণ) ছবি দিয়েছে, সে প্রায় আমাদের মেয়েরই বয়সী। এটা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। আমাদের মেয়ে মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী। ওর মনে কী প্রভাব পড়ছে, তা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য আমার মেয়েকে সামলানো, ওকে মানসিকভাবে শক্ত রাখা।”

তিনি আরও বলেন, এই বিয়ে শুধু আইনি দিক থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ নয়, নৈতিকভাবেও অত্যন্ত কুৎসিত। তাঁর অভিযোগ, হিরণ নিজেই সব সীমা ভেঙে দিয়েছেন। এতদিন যেসব কথা তিনি চেপে রেখেছিলেন, এখন সেগুলো প্রকাশ্যে আনার সময় এসেছে বলেই মনে করছেন অনিন্দিতা।

হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এই বিতর্কের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর অভিনয় ও রাজনৈতিক জীবনের কথাও। ২০০৭ সালে প্রয়াত পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তীর ‘নবাব নন্দিনী’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় হিরণের। এরপর ২০০৮ সালে ‘ভালবাসা ভালবাসা’ ও ‘চিরসাথী’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে দ্রুতই নিজের জায়গা করে নেন টালিউডে।

পরবর্তী সময়ে ‘মন যে করে উড়ু উড়ু’, ‘লে হালুয়া লে’, ‘মাচো মস্তান’সহ বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় হয়ে ওঠেন হিরণ। ২০২১ সালে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেন এবং একই বছর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে খড়গপুর সদর আসন থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন।

একজন জনপ্রিয় অভিনেতা ও জননির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এই ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে নতুন দাম্পত্য জীবনের খবর, অন্যদিকে প্রথম স্ত্রীর তোলা গুরুতর অভিযোগ—সব মিলিয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের জীবন এখন তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।

এই পরিস্থিতিতে হিরণের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে প্রথম স্ত্রীর বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি যে শুধু পারিবারিক পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং আইনি ও সামাজিক আলোচনার দিকেও গড়াতে পারে, তা বলাই যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com