বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলার আগে ভেবে নিন: শামসুজ্জামান দুদু

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ১২৩ বার
বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলার আগে ভেবে নিন: শামসুজ্জামান দুদু

প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রনেতা শামসুজ্জামান দুদু হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যারা বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছেন বা স্লোগান দিচ্ছেন, তারা যেন তা ভালোভাবে চিন্তা করে বলেন। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি যে আত্মত্যাগ করেছে, তা তুলনাহীন এবং কোনোভাবেই অবমূল্যায়নযোগ্য নয়।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এক প্রতিবাদ সভায় এ বক্তব্য দেন তিনি। ‘সমাজকল্যাণ পরিষদ’ আয়োজিত এ সভার মূল প্রতিপাদ্য ছিল বিএনপির বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং গণতন্ত্র বিনষ্টের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

দুদু বলেন, “বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়েছে। যারা আজ দলটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন, তারা বুঝে-শুনে কথা বলুন। কারণ দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে বিএনপি’র অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ।”

তিনি অভিযোগ করেন, দেশজুড়ে একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে, যার উদ্দেশ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা। এর প্রমাণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন চাঁদপুরে মসজিদের ইমামের ওপর হামলা এবং খুলনায় সাবেক যুবদল নেতাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা। তাঁর মতে, এই ঘটনাগুলো কেবল নির্বাচন ব্যাহত করারই অংশ নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে রুদ্ধ করার অপচেষ্টা।

মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যাকাণ্ড নিয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বলেন, “এই নির্মম হত্যার তীব্র নিন্দা জানাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আহ্বান জানাই, যারা এই ঘটনার পেছনে আছে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন।” তিনি আরও দাবি করেন, “সোহাগ যুবদলের কর্মী ছিলেন, কিন্তু তাকে ঘিরে চাঁদাবাজির গল্প বানিয়ে বিএনপিকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ড ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একটি দল দাবি করছে দেশে নির্বাচন আয়োজনের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। এই ধরনের বক্তব্য আসলে গণতন্ত্রকে থামিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অংশ। যারা বলে সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হবে না, তাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে নির্বাচন পেছানো এবং স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা।”

দুদু সতর্ক করে বলেন, “বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দোলাচলে দাঁড়িয়ে। এই সময় যারা জনগণের ভোটাধিকারকে অস্বীকার করে রাজনৈতিক অবস্থান নিচ্ছেন, ইতিহাস তাদের স্বৈরাচারের দোসর হিসেবেই মনে রাখবে।”

দুদুর এই বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, যেখানে নির্বাচন, ভোটাধিকার ও জনগণের নিরাপত্তা প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বিরোধী দল হিসেবে বিএনপি ও তার নেতারা সরকার ও প্রশাসনের প্রতি যে চাপ সৃষ্টি করছেন, তাতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে— আসন্ন দিনগুলোতে রাজনীতিতে উত্তাপ ও সংঘাত আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, সভায় অন্যান্য বক্তারাও বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, সহিংসতা ও অপপ্রচার বন্ধের দাবি জানান এবং নির্বাচনী গণতন্ত্রের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য দেশের সব শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত