জুলাই ঐক্যের প্রতীকী কফিন মিছিল বুধবার: গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে শপথ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৪ বার
জুলাই ঐক্যের প্রতীকী কফিন মিছিল বুধবার: গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে শপথ

প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জুলাই ঘোষণাপত্রের প্রস্তাবিত সংস্কার এবং শহিদদের স্মরণে আগামীকাল বুধবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি প্রতীকী কফিন মিছিল। ‘জুলাই ঐক্য’ নামের নাগরিক জোটের উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজিত হচ্ছে গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের হত্যাদিবস উপলক্ষে। মিছিলটি শুরু হবে সাইন্সল্যাব মোড় থেকে এবং শেষ হবে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে।

প্রতীকী এই কফিন মিছিলকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে রাজধানীতে গড়ে উঠেছে আলোচনার নতুন তরঙ্গ। সমমনা ১০৮টি সংগঠনের প্রতিনিধি নিয়ে গত রোববার কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা হলে অনুষ্ঠিত সম্মেলন থেকেই এই কর্মসূচির ঘোষণা আসে। যদিও শুরুতে কর্মসূচির তারিখ ১৫ জুলাই ধার্য ছিল, পরবর্তীতে জুলাই ঐক্যের নেতৃত্ব এবং অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে তা একদিন পিছিয়ে ১৬ জুলাই নির্ধারণ করা হয়—যা গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই দিনটিতেই শহিদ হন তরুণ সাহসী যোদ্ধা আবু সাঈদ।

জুলাই ঐক্য এক বিবৃতিতে জানায়, এই মিছিল কেবল একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং এটি বর্তমান রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক ব্যবস্থার প্রতিরোধে একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। এতে সংবিধান, প্রশাসন, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারে প্রয়োজনীয় রূপরেখা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জুলাই ঘোষণাপত্রে চারটি মূল দাবি সামনে আনা হয়েছে—একটি গণমুখী প্রশাসনিক সংস্কার, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা, সংস্কৃতির অচলায়তন ভেঙে নতুন প্রগতিশীল ধারার বিকাশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কারে সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন।

সংগঠকরা মনে করছেন, এই প্রতীকী কফিন মিছিলের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের অসাড়তা, নীতিহীনতা এবং বিচারহীনতার বিরুদ্ধে একটি নতুন গণচেতনার উন্মেষ ঘটবে। এতে জনগণের মনে প্রশ্ন জাগবে—কে সত্যিকারের শহিদ? কে গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি?

মিছিলের আয়োজকরা জানিয়েছেন, কফিন বহনের মধ্য দিয়ে তাঁরা প্রতীকীভাবে রাষ্ট্রের নৈতিক মৃত্যু এবং গণতন্ত্রের কবরস্থ অবস্থাকে তুলে ধরতে চাচ্ছেন। একইসঙ্গে সেই কফিনের ভেতরেই থাকবে প্রত্যয়—একটি নতুন, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন।

আয়োজকেরা আরও জানিয়েছেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে এসে মিছিলটি শেষ হবে। সেখানেই শহিদ আবু সাঈদসহ গণ-অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের স্মরণে অনুষ্ঠিত হবে দোয়া ও মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি।

‘জুলাই ঐক্য’ সকল নাগরিককে দল-মত নির্বিশেষে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। তারা মনে করছে, একটি রাষ্ট্র কখনো কেবল আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে নয়, নৈতিক দায়িত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করেই টিকে থাকে।

এই মিছিল তাই শুধু একটি দিনকে স্মরণ করা নয়, এটি একটি ভবিষ্যতের ডাক—যেখানে শহিদের রক্ত বৃথা যাবে না, যেখানে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠিত হবে, এবং একটি জনগণের রাষ্ট্রে রূপ নেবে বাংলাদেশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত