বর্ষা, বন্যা আর ভাইরাস, একসঙ্গে চাপে জনস্বাস্থ্য

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৪ বার

প্রকাশ: ১৫ জুলাই | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

বর্ষার মৌসুম বাংলাদেশে প্রকৃতির অপরূপ রূপের সঙ্গে বয়ে আনে নানা দুর্ভোগও। চলমান বৃষ্টিপাত ও নদীভাঙনের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে। এ বছর দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এরই মধ্যে পানির নিচে চলে গেছে। একদিকে নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে, অন্যদিকে বৃষ্টির পানি শহরের অলি-গলি ডুবিয়ে দিচ্ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জলাবদ্ধতা, যা হয়ে উঠেছে নানা রোগজীবাণুর উৎস।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, জ্বর, সর্দি-কাশির প্রকোপের পাশাপাশি ডায়রিয়া, জন্ডিস আর ডেঙ্গুর মতো মৌসুমি রোগগুলোও বেড়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি জুলাই মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহরে নালা-নর্দমা ও জমে থাকা পানিই হয়ে উঠছে এডিস মশার প্রজননের উপযুক্ত স্থান।

মৌসুমি রোগের মধ্যে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়া, হঠাৎ জ্বর আর ভাইরাসঘটিত নানা ইনফেকশন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকটও দেখা দিচ্ছে। শহরাঞ্চলে একদিকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অকার্যকর ব্যবস্থাপনা আর অন্যদিকে অজস্র গর্ত আর ড্রেনের ময়লা পানি মিলে জনস্বাস্থ্যকে চরম হুমকির মুখে ফেলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মৌসুমে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকতে হবে পানিবাহিত রোগ আর মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে। ডা. হুমায়ুন কবীর, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, জানিয়েছেন—“বৃষ্টির পানি জমে থাকা আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের বিস্তার ঘটায়। আবার বন্যার পানিতে মিশে থাকা দূষিত উপাদান নানা ধরনের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই শুধু ওষুধ নয়, এ অবস্থায় দরকার সচেতনতা আর স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ।”

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শহর ও গ্রামে নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা, পলিথিনের ব্যবহার সীমিত করা আর মশার ওষুধ ছিটানোর কাজ চলছে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে, কোনো কোনো এলাকায় অভিযান আর সচেতনতামূলক প্রচার সীমাবদ্ধই থেকে যাচ্ছে। ফলে রোগের বিস্তার রোধে নাগরিকদের নিজ উদ্যোগেই সতর্ক হতে হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলমান বৃষ্টিপাত আরও অন্তত এক সপ্তাহ থাকতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে আরও কিছুদিন লাগতে পারে বলেও পূর্বাভাস মিলেছে। বৃষ্টি আর বন্যার এই যুগল আক্রমণে দুর্বল অবকাঠামো আর অব্যবস্থাপনা মিলে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সব মিলিয়ে দেশের প্রান্তিক মানুষ থেকে শুরু করে শহরের নাগরিক—সকলের জন্যই এখনকার প্রাকৃতিক পরিবেশ এক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি পান, ঘরের চারপাশ পরিষ্কার রাখা আর মশারি ব্যবহারসহ ছোট ছোট অভ্যাসই পারে বড় বিপদ এড়াতে। তবে প্রশাসন ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এই রোগবালাইয়ের মৌসুমি চক্র থামানো কঠিনই থেকে যাবে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত