প্রকাশ: ১৬ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
নড়াইলে গভীর শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও আবেগঘন পরিবেশে পালিত হলো ‘শহীদ আবু সাইদ দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। শহীদের আত্মত্যাগের স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ছিল গণতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এক অনন্য ইতিহাসের পুনঃস্মরণ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নড়াইলের জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান। উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রশীদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও পৌরসভার প্রশাসক জুলিয়া শুকায়না, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লিংকন বিশ্বাস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জসিমউদ্দিন, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দিকুর রহমান, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চিতা বিশ্বাস, নড়াইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. মনিরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমীর মো. আতাউর রহমান বাচ্চু, জজ কোর্টের পিপি ও প্রেসক্লাব সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম.এম. মাহবুবুর রশীদ লাবলুসহ রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনায় বক্তারা শহীদ আবু সাইদের বীরত্বগাথা ও তার আত্মত্যাগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, শহীদ আবু সাইদের বলিদান এ দেশের স্বাধীনতা-সচেতনতা এবং গণতান্ত্রিক চেতনায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত। যে লক্ষ্য ও চেতনায় তিনি প্রাণ দিয়েছিলেন, তা আমাদের জাতীয় জীবনে চিরকাল প্রেরণা হয়ে থাকবে। বক্তারা আরও বলেন, শহীদের রক্তের ঋণ শোধ করা না গেলেও তার আদর্শ এবং আত্মত্যাগকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়াই হবে প্রকৃত শ্রদ্ধা।
বিশিষ্টজনরা এ সময় বলেন, শহীদ আবু সাইদের জীবন-দর্শন ও আন্দোলনের কথা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার, যাতে নতুন প্রজন্ম বুঝতে পারে কীভাবে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষ আত্মবলিদান দিতে পারে। তার আত্মত্যাগ যেন কখনও বিস্মৃত না হয় এবং এ অর্জিত স্বাধীনতা যেন কোনও ষড়যন্ত্রে ক্ষুণ্ন না হয়, সে বিষয়ে সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ আবু সাইদসহ গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন নড়াইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি ওয়াকিউজ্জামান। অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্তে ছিল আবেগ, গর্ব এবং এক দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রতিচ্ছবি—এই দেশের স্বাধীনতা, ন্যায়ের লড়াই এবং শহীদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষার।
নড়াইল জেলা প্রশাসনের এমন আয়োজনে একদিকে যেমন শহীদদের প্রতি সম্মান জানানো হয়েছে, অন্যদিকে জাতির দায়িত্বশীল অংশ হিসেবেও নিজেদের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে সকলের।