“রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে কর্মসূচি নির্ধারণ করতে হবে” গোপালগঞ্জ হামলায় গভীর নিন্দা বিএনপির

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ৫১ বার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক | একটি বাংলাদেশ অনলাইন
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৫

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শান্তিপূর্ণ সমাবেশে হামলা এবং এতে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি অভিযোগ করেছে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পরিকল্পিতভাবে ব্যাহত করতে এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা একটি উদীয়মান রাজনৈতিক দলকে চূড়ান্তভাবে দমন করার লক্ষ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে।

বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিএনপির নেতারা বলেন, গোপালগঞ্জে ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনায় সরকার ও প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকটভাবে প্রকাশ পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সহিংসতায় নিহতদের রক্ত যেমন গণতন্ত্রের ওপর নতুন আঘাত, তেমনি এই ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা ও পক্ষপাতিত্ব গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎকে ঘন অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিএনপির ভাষায়, “যদি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মসূচি নির্ধারণে সতর্ক না থাকে, তবে গণতন্ত্রবিরোধী চক্রান্তকারীরা আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে।”

বিএনপি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বর্তমান অস্থিরতা এবং সহিংস পরিস্থিতি একটি গভীর পরিকল্পনার অংশ। দলটির নেতারা মনে করছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে প্রতিশ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং ব্যাহত করতে একটি মহল সংগঠিতভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হত্যা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে কেন্দ্র করে দলটি এই অভিযোগ উত্থাপন করে।

বিএনপি বলেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, আর তা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই হওয়া জরুরি। দলটি মনে করে, বর্তমান ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়ের কোনো সুযোগ নেই বলেই রাজনৈতিক বৈরিতা আরও বাড়ছে।

এছাড়া সভায় সম্প্রতি পুরান ঢাকায় ব্যবসায়ী লাল চাঁদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিএনপিকে অভিযুক্ত করে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের “শিষ্টাচারবিবর্জিত বক্তব্য ও স্লোগান” প্রসঙ্গে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বিএনপির দাবি, তাদের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অশালীন ও অশ্রাব্য মন্তব্য করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক শালীনতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে কলুষিত করছে।

স্থায়ী কমিটির নেতারা বলেন, “রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত। এ ধরনের বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা শুধু রাজনৈতিক পরিবেশকে বিষাক্ত করে না, বরং জাতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।”

সভায় বিএনপি দৃঢ়ভাবে আহ্বান জানায়, রাজনৈতিক দলগুলো যেন অরাজনৈতিক, বিভাজনমূলক এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে এবং সব দল যেন পারস্পরিক মর্যাদা ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যায়।

উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, সালাহউদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

সার্বিক পরিস্থিতিতে বিএনপি মনে করছে, সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং নির্ভীক প্রশাসন। এই লক্ষ্যে দলটি তার অবস্থান ও কর্মসূচি নির্ধারণ করবে বলে জানানো হয় সভায়।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত