ভয়ের কবরস্থানের পাশের ফ্ল্যাটে রাত জেগে কাটানো সেই মেয়েটি আজ বলিউডের শীর্ষে—ক্যাটরিনা কাইফের সংগ্রামের গল্প

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫
  • ২৬ বার
ভয়ের কবরস্থানের পাশের ফ্ল্যাটে রাত জেগে কাটানো সেই মেয়েটি আজ বলিউডের শীর্ষে—ক্যাটরিনা কাইফের সংগ্রামের গল্প

প্রকাশ: ১৭ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

একটা সময় ছিল, যখন রাতভর ঘুমাতে পারতেন না তিনি—ভয়ে নয়, অজানা এক অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তা তাকে ঘিরে রাখত। সেই মেয়েটিই আজ বলিউডের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল অভিনেত্রীদের একজন, ক্যাটরিনা কাইফ। আজ তার ৪২তম জন্মদিন। অথচ খুব বেশি দিন আগের কথা নয়, যখন হাতে ছিল মাত্র চার লাখ রুপি আর বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে তিনি নেমে পড়েছিলেন ভারতের মুম্বাই শহরের অচেনা, অনিশ্চিত পথে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে লন্ডনের নিরাপদ জীবন ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমান ক্যাটরিনা। কোনো আত্মীয়স্বজন, পেশাগত পরিচিতি বা বড় প্রযোজকের ছায়া তার মাথার উপর ছিল না। ছিল শুধু অদম্য সাহস আর নিজের প্রতি অগাধ বিশ্বাস। ২০০৯ সালে ভারতের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি তখন একদম একা ছিলাম। আমার বড় বোন সঙ্গে ছিল ঠিকই, কিন্তু কিছুদিন পর সে চলে যায় লন্ডনে। বলেছিল—‘ক্যাটরিনা, এটা আমার জন্য নয়।’ আমি জবাব দিয়েছিলাম—‘কিন্তু আমার জন্য এটা ঠিক জায়গা।’ আমি জানতাম, এখান থেকেই আমার শুরু হতে হবে।”

তিনি থাকতেন একটি ক্ষুদ্র অ্যাপার্টমেন্টে, যার পাশে ছিল একটি কবরস্থান। সেখানকার অস্বস্তিকর পরিবেশ তাকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দিত—এই পথ সহজ নয়। ভয়ের সঙ্গে লড়াই করেই প্রতিটি রাত পার করতেন তিনি। দিনের আলো ফুটলেই ঘুমাতেন। দিনের বেলা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন মডেলিং এজেন্সিতে নিজের পোর্টফোলিও জমা দিতেন, খুঁজতেন কাজের সুযোগ।

ক্যাটরিনা বলেন, “আমি নিজেকে বলেছিলাম—চার লাখ রুপি যদি আমাকে কোনো অবস্থান এনে দিতে পারে, তাহলে আমি থাকব। না পারলে লন্ডনে ফিরে গিয়ে আবার কলেজে ভর্তি হব। আমি তখনও জানতাম না, আমি অভিনয়ে আসতে যাচ্ছি। শুধু জানতাম, আমি ভারতে কিছু একটা করতে চাই।”

শুরুর দিনগুলো কষ্টের হলেও খুব দ্রুতই তিনি মডেলিং জগতে নিজের উপস্থিতি জানান দিতে শুরু করেন। ২০০৩ সালে বুম ছবির মধ্য দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় তার। যদিও সেই ছবি তেমন সাড়া ফেলেনি, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি ম্যায়নে পেয়ার কিউ কিয়া, ওয়েলকাম, পার্টনার, আজব প্রেম কি গজব কাহানি, টাইগার সিরিজ, জিন্দেগি না মিলেগি দুবারা, ধুম থ্রি–এর মতো একের পর এক হিট ছবি দিয়ে নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে তোলেন।

তবে শুধুই সৌন্দর্য বা গ্ল্যামার নয়, ক্যাটরিনার সাফল্যের পেছনে ছিল কঠোর পরিশ্রম, শেখার আগ্রহ এবং অভিনয়ের প্রতি নিবেদন। ভাষাগত দুর্বলতা থেকে শুরু করে বলিউডে ‘আউটসাইডার’ হিসেবে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে তিনি আজ প্রতিষ্ঠিত একজন শিল্পী। বহু পরিচালকের কাছ থেকে প্রশংসা কুড়িয়েছেন, প্রমাণ করেছেন নিজেকে ভিন্ন ধারার চরিত্রে।

৪২তম জন্মদিনে দাঁড়িয়ে যখন পেছনে তাকান ক্যাটরিনা, তখন হয়তো সেই ভয়ানক কবরস্থানের পাশের ছোট ঘরটা তাকে মনে করিয়ে দেয়—সফলতার পথে একেকটি রাত কীভাবে পার করেছিলেন তিনি। ঘুমহীন রাত, একাকীত্ব, দোটানা—সবকিছুর ভিতর দিয়েই নিজের স্বপ্নকে ধরে রেখেছিলেন। আজকের দিনে ক্যাটরিনা কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম, সাহস ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।

তার জীবন কাহিনি আরও একবার প্রমাণ করে, সত্যিকারের স্বপ্ন পূরণ হয় তখনই—যখন মানুষ হাল না ছেড়ে, ভয়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এগিয়ে যেতে জানে। ক্যাটরিনা কাইফের সেই এগিয়ে যাওয়ার গল্প তাই নতুন প্রজন্মের জন্য হয়ে থাকুক সাহসের এক অমোঘ উদাহরণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত