প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে জনপ্রিয় থ্রিলার ফ্র্যাঞ্চাইজি দৃশ্যম ৩। মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য অর্জন করে নতুন রেকর্ড গড়েছে সিনেমাটি। মুক্তির পর থেকেই দর্শক-উচ্ছ্বাস, প্রেক্ষাগৃহে ভিড় এবং বিশ্বব্যাপী আয়—সব মিলিয়ে ছবিটি আবারও প্রমাণ করেছে, ‘জর্জকুট্টি’ চরিত্রের জনপ্রিয়তা এখনো অটুট।
২০১৩ সালে প্রথম দৃশ্যম মুক্তির পর পরিচালক জিতু জোসেফ ভারতীয় থ্রিলার ঘরানায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিলেন। সাধারণ এক কেবল অপারেটর জর্জকুট্টির বুদ্ধিমত্তা দিয়ে পরিবারের সুরক্ষার গল্প দর্শকদের এতটাই নাড়া দিয়েছিল যে পরবর্তী সময়ে এর একাধিক ভাষায় রিমেক তৈরি হয়। হিন্দি, তামিল, তেলেগু থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্করণেও এই গল্প সমান জনপ্রিয়তা পায়।
এই ধারাবাহিকতায় মুক্তি পাওয়া দৃশ্যম ২ ও দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পায়, যদিও এটি মূলত ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছিল। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার প্রেক্ষাগৃহে এসেছে তৃতীয় কিস্তি, যা ঘিরে আগে থেকেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
গত ২১ মে, মোহনলালের জন্মদিনে মুক্তি পায় নতুন এই সিনেমা। ফলে দিনটি ভক্তদের কাছে দ্বিগুণ আনন্দের হয়ে ওঠে। কেরালার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে রাত থেকেই বিশেষ প্রদর্শনী, কেক কাটা এবং ভক্তদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। মোহনলাল অভিনীত এই চরিত্র আবারও দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছে।
বক্স অফিস বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনেই সিনেমাটি বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪৩ কোটি রুপি আয় করেছে। এর মধ্যে ভারতে আয় হয়েছে প্রায় ১৮.৩৭ কোটি রুপি এবং বিদেশি বাজার থেকে এসেছে আরও প্রায় ২৫ কোটি রুপি। এই অর্জনের মাধ্যমে সিনেমাটি মালয়ালম চলচ্চিত্র ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিংয়ের রেকর্ড গড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় থাকা মালয়ালি প্রবাসীদের ব্যাপক সমর্থন এই সাফল্যের অন্যতম কারণ। পাশাপাশি থ্রিলার ঘরানার প্রতি বিশ্বব্যাপী দর্শকদের আগ্রহও সিনেমাটির বাণিজ্যিক সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছে।
তবে সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া কিছুটা মিশ্র। অনেকেই মনে করছেন, আগের দুই কিস্তির তুলনায় এবার গল্পের রহস্য কিছুটা কম গভীর। আবার কেউ কেউ বলছেন, অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপের কারণে সিনেমাটি পুরোপুরি বিস্ময় তৈরি করতে পারেনি। তবুও প্রায় সবাই একমত যে মোহনলালের অভিনয়ই সিনেমার মূল শক্তি।
জর্জকুট্টি চরিত্রটি ভারতীয় সিনেমায় এক ব্যতিক্রমী উপস্থাপন। সাধারণ একজন পরিবারপ্রেমী মানুষ কীভাবে নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে আইন ও পরিস্থিতির জটিলতা মোকাবিলা করেন, সেই মানবিক দিকই এই চরিত্রকে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে দিয়েছে। অ্যাকশন বা সুপারহিরো নির্ভর নায়কের বাইরে গিয়ে একটি সাধারণ মানুষের গল্প এত দীর্ঘ সময় ধরে জনপ্রিয় থাকা চলচ্চিত্র ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
পরিচালক জিতু জোসেফ এবারও ধীরগতির বর্ণনার মাধ্যমে টানটান উত্তেজনা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন। যদিও কিছু সমালোচকের মতে, প্রথমার্ধ কিছুটা ধীর, তবে শেষ অংশে গল্প আবার গতি ফিরে পায় এবং দর্শকদের ধরে রাখতে সক্ষম হয়।
সিনেমাটির জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে কারণ এটি শুধুমাত্র একটি ক্রাইম থ্রিলার নয়, বরং পারিবারিক সম্পর্ক, ভয়, বুদ্ধিমত্তা এবং নৈতিক দ্বন্দ্বের সমন্বয়ে গড়া একটি গল্প। এই কারণেই ‘দৃশ্যম’ সিরিজটি কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক প্রভাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে শক্তিশালী শুরু সত্ত্বেও এখন দেখার বিষয়, দ্বিতীয় সপ্তাহে সিনেমাটি কতটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুখে মুখে প্রচার যদি ইতিবাচক থাকে, তাহলে এটি আরও বড় বাণিজ্যিক সাফল্যের দিকে যেতে পারে।
ভারতীয় সিনেমা শিল্পে মালয়ালম চলচ্চিত্রের অবস্থান দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। তুলনামূলক কম বাজেটের হলেও গল্পনির্ভর নির্মাণ এবং শক্তিশালী অভিনয়ের কারণে এই ইন্ডাস্ট্রি এখন আন্তর্জাতিক বাজারেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ‘দৃশ্যম ৩’ সেই ধারারই একটি বড় উদাহরণ।
সব মিলিয়ে প্রথম দিনেই দারুণ সাফল্য নিয়ে ‘দৃশ্যম ৩’ শুধু বক্স অফিসেই নয়, দর্শকের মনেও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। এখন অপেক্ষা, এই সাফল্য কতদিন ধরে রাখতে পারে এবং জর্জকুট্টির গল্প আর কত দূর এগোয়।