আমির হামজা বলেছেন, গোপালগঞ্জকে আশপাশের জেলাগুলোর মধ্যে বিলুপ্ত করে ভাগ করে দেওয়া হলে সেটাই হবে উত্তম।

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫
  • ৯৭ বার
আমির হামজা বলেছেন, গোপালগঞ্জকে আশপাশের জেলাগুলোর মধ্যে বিলুপ্ত করে ভাগ করে দেওয়া হলে সেটাই হবে উত্তম।

প্রকাশ: ১৮ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

গোপালগঞ্জকে বাংলাদেশ মানচিত্র থেকে বাদ দিয়ে পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর মধ্যে বিভক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজা। বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) কুষ্টিয়ায় আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ বক্তব্য দেন। তাঁর এই বিতর্কিত বক্তব্য ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠেছে।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আয়োজনে ছাত্রলীগের কথিত ‘নৈরাজ্য’ এবং গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, “গোপালগঞ্জকে বাংলার মানচিত্র থেকে মুছে দিয়ে ৬৩ জেলা নিয়ে বাংলাদেশ গঠন করা হোক। এই জেলা মানচিত্রে না থাকাই ভালো। গোপালগঞ্জকে আশপাশের জেলার মধ্যে ভাগ করে দিলে দেশের জন্য মঙ্গল হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর যে হামলা চালানো হয়েছে, তা কেবল একটি রাজনৈতিক দলের ওপর নয়—এটি পুরো দেশের ১৮ কোটি মানুষের ওপর সশস্ত্র আগ্রাসনের সামিল। যারা এই বর্বর হামলার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।”

গোপালগঞ্জের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে মুফতি হামজা বলেন, “আমরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দিয়েছিলাম, কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে গেছে। এখন যদি দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে আমরা ধরে নেব, গোপালগঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই হামলায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বা তাদের মদদপুষ্ট। এটা শুধু রাজনৈতিক সহিংসতা নয়, এটা রাষ্ট্রীয় সহিংসতার ইঙ্গিত বহন করে।”

এ সময় কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য রাখেন। তাঁরা দাবি করেন, গোপালগঞ্জের বর্তমান নাম পরিবর্তন করে একটি নতুন নাম নির্ধারণ করতে হবে এবং এর জন্য একটি রাষ্ট্রীয় অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। বক্তারা বলেন, “গোপালগঞ্জ নামটির পেছনে রয়েছে ইতিহাসবিকৃতি, রাজনৈতিক আধিপত্য এবং একক গোষ্ঠীর ক্ষমতা কুক্ষিগত করার এক করুণ দলিল। এই নাম বহন করেই এ অঞ্চলে অন্যায়-অবিচার চালিয়ে যেতে চায় একটি বিশেষ মহল।”

সমাবেশে বক্তারা জেলা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের দাবি, ১৬ জুলাইয়ের হামলার ঘটনায় গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না। বক্তারা তাঁর পদত্যাগ দাবি করেন এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এই ধরনের বক্তব্য এমন সময় সামনে এল, যখন গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন চারজন, আহত হয়েছেন বহু রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন জারি করেছে কারফিউ, বন্ধ রয়েছে দোকানপাট ও যান চলাচল, এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে মোতায়েন রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এদিকে, আমির হামজার বক্তব্য নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই একে ‘উস্কানিমূলক’, ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ এবং ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে অভিহিত করেছেন। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এটি তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং গোপালগঞ্জে সংঘটিত ঘটনাবলির প্রেক্ষিতে তাদের প্রতিক্রিয়া।

সার্বিকভাবে, এই প্রস্তাব দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, যার পরিণতি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com