রুমিন ফারহানা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রক্ষা, ওয়াজ ও বাউল বজায় থাকবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬
  • ১৪ বার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ঘোষণা করলেন, এলাকায় ওয়াজ, কীর্তন ও বাউল গান অব্যাহত থাকবে এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা করা হবে।

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা দেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নে আধ্যাত্মিক সাধক আব্দুল কাদির শাহ (রহ.)-এর ৫৮তম স্মরণোৎসব ও বার্ষিক ওরস উদ্বোধনকালে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার দায়িত্বকাল পর্যন্ত এলাকায় ওয়াজ, কীর্তন ও বাউল গান অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, “গত ১৮ মাসে আমরা দেখেছি কিভাবে একটার পর একটা মাজার ভাঙা হয়েছে এবং বাউল গানের আসরে বাধা দেওয়া হয়েছে। ঈদুল ফিতরের এক দিন পরে সিলেটে এ ধরনের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হয়েছি। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যত দিন এই এলাকার দায়িত্বে থাকব, তত দিন এই আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরো বলেন, “বাউল গান যারা করে, তাদের হেনস্তা করে জেলে দেওয়া হয়েছে—আমরা এসব দেখেছি। আর কোনো রাজনীতিবিদ এই বিষয়ে কি প্রতিবাদ করেছে, তা জানি না। তবে আমি সংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিটি মাজার ভাঙার প্রতিবাদ করেছি। আমাদের দায়িত্ব হলো বাংলাদেশের সৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে লালন-পালন করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে দেওয়া। বাউল গান ও মাজারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

স্মরণোৎসব ও বার্ষিক ওরসের মাধ্যমে রুমিন ফারহানা আঞ্চলিক মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র অনুষ্ঠান নয়; এটি আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অংশ। যারা এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে, তারা আমাদের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তাই তাদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।”

সংসদ সদস্যের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, গতকালের অনুষ্ঠানে এলাকার সাধারণ মানুষ, আধ্যাত্মিক সাধক, বাউল ও স্থানীয় শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি কেবল আধ্যাত্মিক দিকটি নয়, বরং সামাজিক সংহতি ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “আমরা চাই আমাদের এলাকার প্রত্যেকটি পরিবার এই অনুষ্ঠান থেকে শিক্ষণীয় দিক শিখুক, নতুন প্রজন্ম জানুক যে আধ্যাত্মিকতা ও সংস্কৃতি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ওয়াজ, কীর্তন ও বাউল গান এই সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক ধারাকে শক্তিশালী করে।”

রুমিন ফারহানা আরো বলেন, “আমাদের এলাকার মানুষদের আধ্যাত্মিক চেতনা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, সেই দিকেই আমাদের মনোযোগ থাকবে। যারা আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে অবহেলা বা হস্তক্ষেপ করে, তাদের কর্মকাণ্ড আমরা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করি। আমি নিশ্চিত করব, স্থানীয়দের অংশগ্রহণে এসব অনুষ্ঠান স্বচ্ছন্দে ও নিরাপদভাবে অনুষ্ঠিত হবে।”

স্থানীয় জনগণও তার এই বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, “সংসদ সদস্যের এই দৃঢ় মনোভাব আমাদের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি দেয়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতেও আমাদের এলাকায় বাউল গান, কীর্তন ও ওয়াজে অংশ নেওয়া নিরাপদ এবং উৎসাহজনক পরিবেশে হবে।”

এতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২-এর সাংসদ কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধ নন; তিনি স্থানীয় সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানগুলোর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতেও কাজ করছেন। তার এ পদক্ষেপ স্থানীয় মানুষের মধ্যে ঐক্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তুলেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত