সর্বশেষ :
আগে ক্লিন, পরে গ্রিন—ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর: উত্তর সিটির প্রশাসক চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আসামি ১৯ জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা অপ্রতুল, যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার: ফখরুল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনহার এক রাতেই ফলোয়ার ৫৭ লাখ! ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে : আশিক চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: ডা. জাহেদ উর রহমান

ঈদ শেষে ট্রেনে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ১৮ বার
ঈদ শেষে ট্রেনে ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ

প্রকাশ: ২৮ মার্চ  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন সময় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কাটিয়ে কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরতে শুরু করেছেন রাজধানীমুখী মানুষ। ফলে সড়ক ও নৌপথের পাশাপাশি রেলপথেও দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যাত্রীবোঝাই ট্রেন ঢাকায় পৌঁছাতে শুরু করেছে। ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে আবারও কর্মস্থলে যোগ দিতে রাজধানীতে ফিরছেন হাজারো মানুষ, যার ফলে কমলাপুর রেলস্টেশনসহ ঢাকার বিভিন্ন স্টেশনে তৈরি হয়েছে চাপ ও ব্যস্ততা।

রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগে যেমন বাড়িমুখী যাত্রীর চাপ ছিল, তেমনি ঈদের পর শুরু হয়েছে ঢাকামুখী মানুষের স্রোত। শনিবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই ছিল যাত্রীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা ট্রেনগুলোতে যাত্রীর চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। যদিও পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোতে তুলনামূলকভাবে চাপ কিছুটা কম ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই টিকিটের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বিঘ্নে ঢাকায় পৌঁছাতে পেরেছেন। তবে কয়েকটি ট্রেন বিলম্বে পৌঁছানোয় কিছু যাত্রীকে ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে হাওর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায়। এতে যাত্রাপথ দীর্ঘ হওয়ায় ক্লান্তি বেড়েছে যাত্রীদের। তবুও বেশিরভাগ যাত্রী জানিয়েছেন, অতিরিক্ত ভিড় থাকা সত্ত্বেও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি এবং সার্বিকভাবে যাত্রা ছিল সহনীয়।

ঈদের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি থাকায় রেলপথকে তুলনামূলক নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে যানজটের ঝুঁকি কম থাকায় অনেকেই ট্রেনে ভ্রমণকে অগ্রাধিকার দেন। ফলে ঈদের আগে ও পরে ট্রেনে যাত্রী চাপ বৃদ্ধি একটি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা যায়।

এদিকে নৌপথেও ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলো একের পর এক ভিড়তে থাকে ঘাটে। ভোররাত তিনটার পর থেকেই দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটের লঞ্চ ঢাকায় পৌঁছাতে শুরু করে। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাগ ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হাতে দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে ঘাটে নামছেন যাত্রীরা। কারও হাতে ট্রলি ব্যাগ, কারও কাঁধে বড় ব্যাগ, আবার কেউ শিশুদের হাত ধরে নামছেন লঞ্চ থেকে। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি চোখে থাকলেও ঈদের আনন্দময় সময় কাটানোর স্মৃতি যেন তাদের মুখে কিছুটা স্বস্তির ছাপ এনে দিয়েছে।

তবে লঞ্চযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হলেও ঘাটে নামার পর যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের কারণে যাত্রীদের বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে, যা তাদের জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানীতে ফিরে আসা অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দের পর আবার কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ যাত্রা শেষে ক্লান্তি থাকলেও কর্মজীবনের দায়িত্ব পালনের জন্য দ্রুতই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে হবে তাদের।

বিশ্লেষকদের মতে, ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব হওয়ায় প্রতিবছরই বাড়িমুখী এবং ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত মানুষ ঈদের সময় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামে ফিরে যান। ছুটি শেষে তারা আবার কর্মস্থলে ফিরে আসেন। ফলে কয়েকদিন ধরে পরিবহন খাতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদ পরবর্তী যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যদিও কিছু ট্রেন বিলম্বে পৌঁছেছে, তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সড়ক, রেল ও নৌপথ—সব ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানো সম্ভব। বিশেষ করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ঈদের আনন্দ শেষে কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরে আসার এই যাত্রা অনেকের জন্য আবেগঘনও বটে। পরিবার ও প্রিয়জনকে রেখে কর্মস্থলে ফিরে আসা সহজ নয়, তবে জীবিকার প্রয়োজনে সেই বাস্তবতাকেই মেনে নিতে হয়। তবুও পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতি অনেকের কাছে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ঈদ শেষে ঢাকামুখী যাত্রার চাপ থাকলেও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়া মানুষ রাজধানীতে ফিরতে পারছেন। যাত্রীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে আরও উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠলে এ ধরনের যাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত