সর্বশেষ :
আগে ক্লিন, পরে গ্রিন—ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে পরিচ্ছন্নতার ওপর জোর: উত্তর সিটির প্রশাসক চট্টগ্রামে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আসামি ১৯ জিয়াউর রহমানের ওপর গবেষণা অপ্রতুল, যা ইতিহাসের প্রতি অবিচার: ফখরুল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ হাইকোর্টের কূটনৈতিক পাসপোর্ট না নেওয়া নিয়ে মুখ খুললেন তথ্য উপদেষ্টা জুলাই মাসে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে স্কুল ড্রেস বিতরণ শুরু : শিক্ষামন্ত্রী স্পেনকে রুখে দেওয়া ভোজিনহার এক রাতেই ফলোয়ার ৫৭ লাখ! ‘চাঁদা দাবির’ অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি তিন মাসের মধ্যে চীনে বিডার প্রথম বিদেশি অফিস খোলা হবে : আশিক চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ হিসেবেই ভারত থেকে ফিরেছি: ডা. জাহেদ উর রহমান

টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ১৬ বার
টাঙ্গাইলে ট্রেনে কাটা পড়ে মা-ছেলে নিহত

প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টাঙ্গাইল, বাংলাদেশ – পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে টাঙ্গাইলের কালিহাতী এলাকায় একটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পোশাক কারখানার শ্রমিক নার্গিস বেগম, তার শিশু সন্তান, ছোট ভাই এবং স্বজনরা। আনন্দ ও উৎসবের মাঝেই এই মর্মান্তিক ঘটনা পরিবারের ওপর এক অদম্য শোকের ছায়া ফেলেছে।

পাঁচদিন আগে বাড়িতে ফিরে বড় ছেলে নাঈমের বিয়ে দিয়েছিলেন নার্গিস। ঈদ ও বিয়ের আনন্দে পুরো পরিবারকে মিলে গেছে আনন্দের বন্যা। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সেই আনন্দ গভীর শোকে পরিণত হলো। দুর্ঘটনা ঘটে শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে। বাসে করে টাঙ্গাইলের কালিহাতী এলাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় বাসের জ্বালানি শেষ হয়ে যায়। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বাস থেকে নেমে পড়েন। নার্গিস, তার ছোট ছেলে নীরব, বড় ছেলের শাশুড়ি দোলা বেগম এবং একই এলাকার প্রতিবেশী রিপা ও সুলতান রেললাইনে বসে থাকাকালীন ট্রেনে কাটা পড়ে তারা প্রাণ হারান।

মৃত নার্গিসের বড় ছেলে নাঈম মায়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে শোকে পাথর হয়ে গেছেন। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে তিনি জানান, “যাওয়ার সময় মা বলেছিলেন, পরের বার এসে তোর বাড়ি করে দেব।” নাঈমের কথায়, “মায়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। এত অল্প সময়ে এত কিছু হারানো কল্পনাতীত।”

স্থানীয়রা জানান, নার্গিসের স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি। অভাবের সংসার সামলাতে নার্গিস পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বড় ছেলে নাঈমের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য তিনি এবং তার ছোট ছেলে নীরব সোমবার (২৩ মার্চ) টাঙ্গাইলের তার ভাইয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বিয়ের আনন্দময় মুহূর্ত কাটানোর পর শুক্রবার সকালে পুনরায় কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হন তারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রতিবেশী সুলতান ও রিপা।

বাসের তেল ফুরিয়ে যাওয়ার পর যাত্রীরা বাইরে নেমে রেললাইনে বসেন। ট্রেন দুর্ঘটনার সময় নার্গিস, তার সন্তান, শাশুড়ি এবং প্রতিবেশী মারা যান। নিহতদের মরদেহ শনিবার সকালে তাদের নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছে। নার্গিস, শিশুসন্তান নীরব, রিপা ও সুলতানের মরদেহ ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজ পাড়া গ্রামে, আর দোলা বেগমের মরদেহ বোয়ালীদহ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

স্থানীয়রা দুর্ঘটনার খবর শোনার পর থেকেই এলাকায় মাতম চলছে। প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, পরিবারটি সাদাসিধে এবং অভাবী হলেও পরিশ্রমী। নার্গিস ছিলেন পরিবারের জীবিকার জন্য নিরলস পরিশ্রমী। তাদের হঠাৎ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত নার্গিস বেগমের ছোট ছেলে নীরবের নানারাও জানিয়েছেন, তারা সবসময় মায়ের আদেশ ও দেখাশোনা মেনে চলত। এই দুর্ঘটনায় তাদের জীবনের স্বাভাবিকতা সম্পূর্ণভাবে থমকে গেছে। ছোট ছেলে ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও দাফনের প্রক্রিয়া তদারকি করেন। তারা দুর্ঘটনার কারণ ও রেললাইনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করছেন। তাছাড়া যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছেন।

নিহতের স্বজনরা শোকে বিষণ্ণ। স্থানীয়রা বলছেন, “এভাবে মায়ের এবং ছেলের মৃত্যু এক সঙ্গে ঘটে যাওয়ায় পরিবারের জন্য এটি এক বিশাল ধাক্কা।” স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার জন্য রেললাইনের নিরাপত্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা কার্যক্রম পর্যাপ্ত ছিল কি না, তা পর্যালোচনার দাবি করছেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন নিহতদের পরিবারকে শোকাহত পরিস্থিতিতে সহায়তা দিচ্ছেন। আহতদের জন্য মানসিক সহায়তা ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার কথা বলা হচ্ছে। এলাকাবাসী আশা করছেন, এই দুর্ঘটনা যেন ভবিষ্যতে আর কেউ পুনরায় না ভোগে, সেজন্য রেললাইনের আশেপাশে সতর্কতা বৃদ্ধি করা হবে।

এ দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের শ্রমজীবী পরিবারের কষ্ট ও ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের বাস্তবতা আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ঈদ ও পরিবারিক আনন্দের মুহূর্তে ঘটে যাওয়া এই ট্রাজেডি পুরো দেশকে স্তম্ভিত করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত