সর্বশেষ :
সীমান্তে আটক ভারতীয় প্রতিবন্ধী নাগরিক, গ্রহণে অনীহা বিএসএফের চরের ১০ স্কুলে শিক্ষা সংকট, শ্রেণিকক্ষেই মাদকসেবন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানালেন তথ্য উপদেষ্টা রাজধানীতে অভিযান, ডিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি মোশারফ গ্রেফতার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা, বাসের চাপায় প্রাণ গেল যুবকের ১২ বছর ধরে অচল একটি সেতু, দুর্ভোগে কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত, আশাবাদ সরকারের বোয়ালমারীতে মাদক কারবারির সন্দেহে গণপিটুনি, ক্ষুব্ধ জনতার আগুনে পুড়ল প্রাইভেটকার এক মাসে চারবার ভূমিকম্প, বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত নাকি স্বাভাবিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া? চীন থেকে যুদ্ধবিমান কিনতে পারে বাংলাদেশ

হাইতির আর্টিবোনিতে গ্যাং হামলায় নিহত ৭০ জন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
  • ৮০ বার
হাইতি আর্টিবোনি গ্যাং হামলা

প্রকাশঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতির আর্টিবোনিতে ভয়াবহ সশস্ত্র গ্যাং হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। এই সহিংস ঘটনায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার ভয়াবহতা সরকারি প্রতিবেদনের চেয়ে অনেক বেশি। সরকার প্রথমে নিহতের সংখ্যা ১৬ জন জানিয়েছিল, কিন্তু স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা ডিফঁসার প্লাস জানিয়েছে অন্তত ৭০ জন মারা গেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, হামলা গত রোববার ভোরে শুরু হয়ে সোমবার ভোর পর্যন্ত চলেছে। জঁ-দেনি এলাকার আশপাশের গ্রামীণ এলাকায় গ্যাং সদস্যরা ঢুকে বসতি ও বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলার সময় স্থানীয় মানুষদের নিরাপদ স্থানে পালাতে হয়েছে। গৃহহীন ও আহতদের মধ্যে অনেকেই এখনও আশ্রয়হীন এবং সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

ডিফঁসার প্লাস জানায়, এই সহিংসতায় প্রায় ৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এর আগে জাতিসংঘ জানিয়েছিল, কয়েকদিনের মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার কারণে অন্তত ২ হাজারের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ১৬ থেকে ১৭ জন ও আহতের সংখ্যা ১০ থেকে ১৯ জন হিসেবে জানিয়েছিল। তবে মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, আসল পরিস্থিতি অনেক ভয়াবহ।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, হাইতিতে নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে হতে পারে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি সকল পক্ষকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। ডিফঁসার প্লাস ও ‘কালেকটিভ টু সেভ দ্য আর্টিবোনিত’ যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতিক্রিয়া না থাকার কারণে এবং আর্টিবোনিত অঞ্চল সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে ছেড়ে দেয়ার কারণে এই বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, হামলার সময় গ্যাং সদস্যরা জোর করে ঘরবাড়ি ভেঙে দিয়েছে এবং আগুন লাগিয়েছে। ফলে বহু পরিবার সম্পূর্ণভাবে ঘরবাড়ি হারিয়েছে এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের উপায়ও বন্ধ হয়ে গেছে। নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতার ভয়ে মানুষরা আশ্রয়হীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বিষয়টিকে মানবিক জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এই হামলা হাইতির আর্টিবোনি অঞ্চলকে আবারও গ্যাং সন্ত্রাস ও আইনশৃঙ্খলা শূন্যতার কবলে ফেলেছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে, আর এই হত্যাযজ্ঞের ঘটনা তা আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় নাগরিকরা নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে ক্ষুধা, শীত ও স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছেন। ডিফঁসার প্লাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, হামলার সময়ে যেসব মানুষ পালাতে পেরেছে, তাদের মধ্যে অনেকেই পথিমধ্যে আহত হয়েছে।

গ্যাং হামলার কারণ হিসেবে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বহীনতা, অপরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্যকে দায়ী করা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানিয়েছে, এই ধরনের সহিংসতা থেকে মানুষদের রক্ষা করতে হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত করা এবং গ্যাং সন্ত্রাস নির্মূলের দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।

হাইতির সাধারণ মানুষ এই হামলার কারণে মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত। পরিবার হারানো মানুষরা আশ্রয়হীন এবং খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, এই হামলার প্রভাব স্থানীয় সমাজের ওপর দীর্ঘমেয়াদী হবে এবং পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

অন্তর্দৃষ্টি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইতির আর্টিবোনি অঞ্চলে গ্যাং হামলার পর দ্রুত আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন। নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকার যদি কার্যকর ব্যবস্থা নাও নেয়, তাহলে এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিজেদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে। নিরাপত্তাহীনতা ও সহিংসতার এই চক্র ভেঙে দেওয়া প্রয়োজন, নাহলে হতাহত মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও সতর্ক। জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা হাইতির পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং তাত্ত্বিক সহায়তা প্রদান করছে। তবে স্থানীয় ও সরকারি উদ্যোগের অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত